ট্রাম্পের ইরান সমঝোতা স্মারক শান্তি চুক্তি নয়—হয়তো কখনোই হবে না
- প্রকাশঃ ০১:৫৬:৩৫ রবিবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 3
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে প্রাথমিক কাঠামো হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা । ছবি: প্রজন্ম কথা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এখনো কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়। এটি কেবল ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য চুক্তির ভিত্তি তৈরির একটি কাঠামো মাত্র। ফলে এই সমঝোতা আদৌ স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ইরানের পারমাণবিক চুক্তির তুলনায় বর্তমান সমঝোতার কাঠামো অনেক বেশি দুর্বল। এতে এখনো স্পষ্ট শর্ত, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞ কূটনৈতিক আলোচনা কিংবা পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি গড়ে ওঠেনি।
বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ নেবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের পথে এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে উভয় পক্ষই এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা নৌ ও বিমান শক্তি প্রত্যাহার করেনি। ফলে সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এছাড়া এমওইউতে থাকা বিভিন্ন অঙ্গীকারের ব্যাখ্যা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্যের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন, ইরান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। অন্যদিকে ইরানও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অন্যতম শক্তি ছিল এর বহুপাক্ষিক চরিত্র। সেই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন অংশ নিয়েছিল। এতে চুক্তির বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান আলোচনায় সেই ধরনের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ নেই।
এ ছাড়া সমালোচকদের দাবি, বর্তমান মার্কিন আলোচক দলে পারমাণবিক কূটনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। তাদের মতে, ওবামা প্রশাসন দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে বুঝেছিল যে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার জন্য হুমকি নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, দেশটির ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে বোঝাপড়া এবং পেশাদার কূটনীতিই বেশি কার্যকর।
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও বর্তমান এমওইউকে কেবল ভবিষ্যৎ আলোচনার একটি প্রতিশ্রুতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত ছিল ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির যেসব দিক নিয়ে আপত্তি ছিল, সেগুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনায় বসা। কিন্তু সেই ধরনের আলোচনা কখনোই হয়নি।
কেরির মতে, ইরান নীতিতে ট্রাম্পের অবস্থান অনেকাংশে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রভাব এবং ওবামার কূটনৈতিক অর্জনকে ছাপিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে প্রভাবিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান সমঝোতা যুদ্ধের অবসানের পথ খুলে দিতে পারলেও এটি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মতো পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস, অস্পষ্ট শর্ত এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের অভাব ভবিষ্যৎ আলোচনাকে কঠিন করে তুলতে পারে।





















