মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টি, সিলেট-সুনামগঞ্জসহ ৬ জেলায় বন্যার শঙ্কা
- প্রকাশঃ ০১:১২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
- / 254
উজান থেকে নেমে আসা ভারী বর্ষণের ফলে সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী ও নেত্রকোনা জেলার নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র শুক্রবার (৩০ মে) জানিয়েছে, সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে তা বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
সিলেট অঞ্চলের সুরমা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানির উচ্চতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৩৪ সেন্টিমিটার (বিপদসীমা ১২.৭৫ সেমি) এবং সিলেট পয়েন্টে ৭.২২ সেমি (বিপদসীমা ১০.৮ সেমি)।
অন্যদিকে, কুশিয়ারা নদীর জকিগঞ্জের অমলসিদে ৯.৬৯ সেমি (বিপদসীমা ১৫.৪০ সেমি), শেওলায় ৮.২৯ সেমি (বিপদসীমা ১৩.০৫ সেমি) এবং ফেঞ্চুগঞ্জে ৭.৫৭ সেমি (বিপদসীমা ৯.৪৫ সেমি) পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে।
পাহাড়ি নদ-নদীগুলোর মধ্যে কানাইঘাটের লোভাছড়ায় ৮.৬৪ সেমি, জৈন্তাপুরে সারি নদীতে ৯ সেমি, জাফলংয়ের ডাউকি পয়েন্টে ৯.২০ সেমি, গোয়াইনঘাটে সারি-গোয়াইনে ৮.০৬ সেমি এবং কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুরে ধলাই নদীতে ৮.১৬ সেমি পানি রেকর্ড হয়েছে, যেগুলো বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মেঘালয়ের পূর্ব ও পশ্চিম খাসি, জৈন্তিয়া ও গারো পাহাড়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ৪৭ মি.মি, নংস্টোইনে ১২.০২ মি.মি, তুরায় ৫৪.৫ মি.মি এবং শিলংয়ে ১০.০ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আগামী ৩১ মে পর্যন্ত এসব এলাকায় ৪০–৬০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ১ ও ২ জুন বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও বজ্রপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বেশিরভাগ নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট জেলার বাসিন্দাদের আগাম সতর্কতা গ্রহণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরামর্শ: নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের খাবার, ওষুধ, নিরাপদ পানি ও আশ্রয়ের প্রস্তুতি রাখার পাশাপাশি সতর্ক সংকেতের প্রতি সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ: স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন বা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদক:তুর্য দাস





























