গৃহকর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
- প্রকাশঃ ০৫:৩০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
- / 233
১৬ জুন আন্তর্জাতিক গৃহকর্মী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে, কর্মজীবী নারী-এর আয়োজনে এবং সুনীতি প্রকল্প-এর সহযোগিতায় একদিনব্যাপী এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় মোহাম্মদপুরের ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে।
বিশ্বব্যাপী গৃহকর্মীদের অধিকার, মর্যাদা এবং শ্রমস্বীকৃতির দাবিতে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও গৃহকর্মী জাতীয় ফোরাম – বাংলাদেশ এবং সুনীতি প্রকল্প সম্মিলিতভাবে গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষার নিশ্চয়তায় কাজ করে যাচ্ছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন গৃহকর্মী প্রতিনিধিবৃন্দ, গৃহকর্মী জাতীয় ফোরাম – বাংলাদেশের অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য এবং ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স রাইটস নেটওয়ার্ক-এর সমন্বয়ক আবুল হোসেন, কর্মজীবী নারীর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক সানজিদা সুলতানা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সংগঠক ও অধিকারকর্মীরা।
আলোচনায় উঠে আসে গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি, শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক স্বীকৃতি এবং ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা। নেপাল, কেনিয়া, ফিলিপিনস, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কা-র অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হয়, যা বাংলাদেশের আন্দোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা।
সভায় গৃহকর্মী জাতীয় ফোরাম – বাংলাদেশ-এর অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন এবং একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় গৃহশ্রমিক ফোরাম – বাংলাদেশ-এর সভাপতি জাকিয়া সুলতানা বলেনগৃহশ্রমিক দিবসটি আমরা পালন করছি ঠিকই, কিন্তু আমরা এখনো গৃহশ্রমিক হিসেবে স্বীকৃত হইনি।
তিনি আরও বলেন আগামী বছর যেন আমরা এই দিবসটি স্বীকৃত শ্রমিক হিসেবে উদযাপন করতে পারি এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সময় এসেছে গৃহকর্ম ও গৃহকর্মীদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার। শ্রমিক হিসেবে শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। গৃহকর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।
২০০৬ সালের শ্রম আইনে গৃহশ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০১১ সালে গৃহশ্রম বিষয়ক আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) কনভেনশন ১৮৯ গৃহীত হলেও, বাংলাদেশ সরকার আজও সেটি অনুসমর্থন করেনি।
এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সংগঠনসমূহ, ফোরাম এবং অধিকারকর্মীদের সম্মিলিতভাবে একটি সুপরিকল্পিত জাতীয় কর্মপন্থা গ্রহণ করা জরুরি যা বৈষম্যবিরোধী অবস্থানে থেকে গৃহশ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতির জন্য রাষ্ট্রের প্রতি সুসংহত দাবি উপস্থাপন করতে পারে।
নাজমা ইয়াসমীন, পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস), এই প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন আমাদের স্থানীয় শক্তিগুলোকে একত্র করে, সমন্বিতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের কাছে গৃহশ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতি আদায়ের জন্য সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষভাগে অংশগ্রহণকারীদের দলীয় ছবি তোলা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কিং সেশন আয়োজন করা হয়, যা পুরো অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও উৎসবমুখর এবং আন্তরিক।





























