বিবিএস জরিপ:
প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন নারী স্বামীর সহিংসতার শিকার
- প্রকাশঃ ০২:৪১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 90
শারীরিক, যৌন, মানসিক ও অর্থনৈতিক সহিংসতার শিকার নারীরা; ২০১৫ সালের তুলনায় সহিংসতার হার কমেছে ১৭ শতাংশ | ছবি: সংগৃহীত
দেশে প্রতি চারজন নারীর মধ্যে তিনজন জীবনে অন্তত একবার স্বামী বা জীবনসঙ্গীর সহিংসতার শিকার হয়েছেন। শারীরিক, যৌন, মানসিক ও অর্থনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণেরও মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা।
তবে আশার বিষয় হলো, সামগ্রিকভাবে এই সহিংসতার হার ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪’-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপটি পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। ফলাফল উপস্থাপন করেন বিবিএসের উপপরিচালক মিনাক্ষী বিশ্বাস।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, দেশের ৭৬ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার স্বামীর সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
এর মধ্যে ৪৯ শতাংশ নারী গত এক বছরে এই সহিংসতার অভিজ্ঞতা পেয়েছেন।
সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে তিনজনের দুজন (৬২ শতাংশ) কখনোই তাঁদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেননি।
জরিপে আরও বলা হয়েছে, ১৫ শতাংশ নারী ১৫ বছর বয়স থেকে সঙ্গী নন এমন ব্যক্তির মাধ্যমে শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ২ শতাংশের বেশি নারী যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, ২০১৫ সালে স্বামীর সহিংস আচরণের হার ছিল ৬৬ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে কমে ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
জরিপে দেখা গেছে, কম বয়সী, স্বল্পশিক্ষিত, শহুরে বস্তিতে বসবাসকারী এবং যাঁদের স্বামী মাদকাসক্ত বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত—তাঁরা বেশি সহিংসতার শিকার হন।
অন্যদিকে, স্বামীর উচ্চতর শিক্ষা নারীর প্রতি সহিংসতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি নারী (৫৪ শতাংশ) জীবদ্দশায় স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ গত এক বছরে একাধিকবার এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন।
বিবাহিত নারীদের মধ্যে ৭ শতাংশের বেশি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শারীরিক সহিংসতা এবং ৫ শতাংশের বেশি যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
ফলাফলে আরও বলা হয়, শাশুড়ি ও পুরুষ আত্মীয়রা নারীর সঙ্গে শারীরিক সহিংসতায় বেশি জড়িত। অন্যদিকে, পুরুষ আত্মীয়, বন্ধু ও পরিচিতজনের মাধ্যমে নারীরা বেশি যৌন সহিংসতার শিকার হন।
জরিপে দেখা যায়, ৮ দশমিক ৩ শতাংশ নারী প্রযুক্তির মাধ্যমে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
এগুলোর মধ্যে যৌন ব্ল্যাকমেল, ছবি নিয়ে অপব্যবহার ও অনলাইন নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ সবচেয়ে বেশি।
সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে মাত্র ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।
স্বামীর সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, এবং তাঁদের অধিকাংশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছেন।
অন্যদিকে, স্বামীর বাইরে অন্য কারও সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৮ শতাংশ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এ ছাড়া জরিপে বলা হয়, প্রতি দুজনের মধ্যে একজনেরও কম নারী (৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ) জানেন না কোথায় অভিযোগ জানাতে হয়।
মাত্র ১২ দশমিক ৩ শতাংশ নারী জানেন, সহিংসতার ক্ষেত্রে হেল্পলাইন ১০৯ থেকে সহায়তা পাওয়া যায়।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য কাইয়ুম আরা বেগম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারি।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং।





























