ঢাকা ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, কমেছে মোটা চাল ও ডিম—বাজারে মিশ্র প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৯:১৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / 25

রাজধানীর খুচরা বাজারে আবারও বাড়তি হয়েছে পেঁয়াজের দাম। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে পেঁয়াজের দাম দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অপরদিকে কিছুটা কমেছে মোটা চাল ও ডিমের দাম—যা বাজারে সামান্য স্বস্তি দিয়েছে ভোক্তাদের।

কল্যাণপুরের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আসিফুর রহমান জানান, ১৫ দিন আগেও তিনি পেঁয়াজ কিনেছিলেন ৯০ টাকায়। গতকাল বৃহস্পতিবার একই বাজারে গিয়ে দেখেন, ভালো মানের পেঁয়াজ ১২০ টাকার নিচে নেই। পাঁচটি দোকান ঘুরেও সস্তা দামের পেঁয়াজ পাননি।

পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানান, দেশি পেঁয়াজের মজুত শেষের দিকে। ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি না থাকায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। সরবরাহ–ঘাটতির কারণে প্রতিবছর অক্টোবর–নভেম্বর এ সময় পেঁয়াজের দাম বাড়ে।

ঢাকার মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুর অঞ্চলের ছোট আকারের পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০–১১০ টাকা, আর পাবনার ভালো মানের পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজি। দুই সপ্তাহ আগে এই পেঁয়াজই বিক্রি হয়েছিল ৭০–৯০ টাকা দরে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব জায়গায় একই চিত্র—সরবরাহ কম, দাম বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নভেম্বরের শুরু থেকেই দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। নতুন মৌসুমের ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে আসবে ডিসেম্বর থেকে। তার আগে দাম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদানিকারক আবদুল মাজেদ বলেন, আমদানির অনুমতি নেই, সরবরাহও কম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত আমদানির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বাজারে স্বর্ণা (মোটা) ও পাইজাম চালের দাম কিছুটা কমেছে। ভারত থেকে আমদানি হওয়ায় স্বর্ণা চাল এখন ৫০ টাকা কেজি, যেখানে সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৫৫ টাকা। পাইজাম চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে হয়েছে ৫৫ টাকা। তবে মিনিকেট চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ফার্মের ডিমের দামও কমেছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০–১৩০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে ছিল ১৩০–১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ১৭০–১৮০ টাকা, আর সোনালি মুরগি ২৭০–৩০০ টাকা দরে।

সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে অধিকাংশ মৌসুমি সবজির। ফুলকপি/বাঁধাকপি: ৪০–৬০ টাকা।  লাউ: ৬০–৮০ টাকা। টমেটো: ১২০–১৪০ টাকা। মুলা: ৫০ টাকা। করলা: ৭০–৮০ টাকা

রাজধানীতে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে গতকাল বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি ছিল কম। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজারে সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা ছিল প্রায় অর্ধেক।

মাংস বিক্রেতা মো. পারভেজ বলেন, দূরের ক্রেতারা আজ আসেননি। তাই বেচাকেনা কম।

বাজারে এখন মিশ্র পরিস্থিতি—পেঁয়াজের দাম চড়া, তবে চাল, ডিম ও সবজিতে কিছুটা স্বস্তি মিলছে ভোক্তাদের।

শেয়ার করুন

হঠাৎ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, কমেছে মোটা চাল ও ডিম—বাজারে মিশ্র প্রভাব

প্রকাশঃ ০৯:১৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর খুচরা বাজারে আবারও বাড়তি হয়েছে পেঁয়াজের দাম। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে পেঁয়াজের দাম দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অপরদিকে কিছুটা কমেছে মোটা চাল ও ডিমের দাম—যা বাজারে সামান্য স্বস্তি দিয়েছে ভোক্তাদের।

কল্যাণপুরের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আসিফুর রহমান জানান, ১৫ দিন আগেও তিনি পেঁয়াজ কিনেছিলেন ৯০ টাকায়। গতকাল বৃহস্পতিবার একই বাজারে গিয়ে দেখেন, ভালো মানের পেঁয়াজ ১২০ টাকার নিচে নেই। পাঁচটি দোকান ঘুরেও সস্তা দামের পেঁয়াজ পাননি।

পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানান, দেশি পেঁয়াজের মজুত শেষের দিকে। ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি না থাকায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। সরবরাহ–ঘাটতির কারণে প্রতিবছর অক্টোবর–নভেম্বর এ সময় পেঁয়াজের দাম বাড়ে।

ঢাকার মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুর অঞ্চলের ছোট আকারের পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০–১১০ টাকা, আর পাবনার ভালো মানের পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজি। দুই সপ্তাহ আগে এই পেঁয়াজই বিক্রি হয়েছিল ৭০–৯০ টাকা দরে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব জায়গায় একই চিত্র—সরবরাহ কম, দাম বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নভেম্বরের শুরু থেকেই দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। নতুন মৌসুমের ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে আসবে ডিসেম্বর থেকে। তার আগে দাম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদানিকারক আবদুল মাজেদ বলেন, আমদানির অনুমতি নেই, সরবরাহও কম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত আমদানির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বাজারে স্বর্ণা (মোটা) ও পাইজাম চালের দাম কিছুটা কমেছে। ভারত থেকে আমদানি হওয়ায় স্বর্ণা চাল এখন ৫০ টাকা কেজি, যেখানে সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৫৫ টাকা। পাইজাম চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে হয়েছে ৫৫ টাকা। তবে মিনিকেট চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ফার্মের ডিমের দামও কমেছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০–১৩০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে ছিল ১৩০–১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ১৭০–১৮০ টাকা, আর সোনালি মুরগি ২৭০–৩০০ টাকা দরে।

সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে অধিকাংশ মৌসুমি সবজির। ফুলকপি/বাঁধাকপি: ৪০–৬০ টাকা।  লাউ: ৬০–৮০ টাকা। টমেটো: ১২০–১৪০ টাকা। মুলা: ৫০ টাকা। করলা: ৭০–৮০ টাকা

রাজধানীতে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে গতকাল বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি ছিল কম। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজারে সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা ছিল প্রায় অর্ধেক।

মাংস বিক্রেতা মো. পারভেজ বলেন, দূরের ক্রেতারা আজ আসেননি। তাই বেচাকেনা কম।

বাজারে এখন মিশ্র পরিস্থিতি—পেঁয়াজের দাম চড়া, তবে চাল, ডিম ও সবজিতে কিছুটা স্বস্তি মিলছে ভোক্তাদের।