অগ্রণী ব্যাংকের দুটি লকার থেকে শেখ হাসিনার ৮৩২ ভরি সোনা উদ্ধার
- প্রকাশঃ ০৯:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
- / 120
শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকে থাকা দুটি লকার থেকে ৮৩২ ভরি সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। কর ফাঁকি ও সম্পদ গোপনের অভিযোগে জব্দ করা এই লকার দুটি মঙ্গলবার আদালতের অনুমতি নিয়ে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খোলা হয়। এ সময় এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লকারগুলো খুলে সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব সোনার পরিমাণ শেখ হাসিনার আয়কর রিটার্নে ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
রাজধানীর দিলকুশায় অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় থাকা লকার দুটি গত সেপ্টেম্বরে কর ফাঁকির অভিযোগে সিআইসি জব্দ করে। তার এক সপ্তাহ আগে, ১০ সেপ্টেম্বর, রাজধানীর সেনা কল্যাণ ভবনে অবস্থিত পূবালী ব্যাংক মতিঝিল করপোরেট শাখার ১২৮ নম্বর লকারটিও জব্দ করে এনবিআর। একই শাখায় শেখ হাসিনার দুটি ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটি হিসাবে ১২ লাখ টাকার এফডিআর এবং আরেকটি হিসাবে ৪৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।
এনবিআর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির তদন্ত পরিচালনা করছে। পাশাপাশি দুদক তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা এবং তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হিসাবসমূহ অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে তাঁর সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের কর ফাঁকি, দুর্নীতি ও সম্পদ জব্দের তদন্ত শুরু করে।





























