ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল

  • প্রকাশঃ ১১:০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 59

জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল | ছবি: সংগৃহীত


আজ মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংগ্রাম ও বীরত্বগাথার এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে লাখো শহীদের আত্মত্যাগ ও অসংখ্য মা–বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।

দিবসটির প্রথম প্রহরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্মৃতিসৌধের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদদের সম্মানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এদিন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদও জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢলে জাতীয় স্মৃতিসৌধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ওঠে। দিবসটি ঘিরে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল একটি দিন নয়; এটি বিজয়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার চিরন্তন প্রতীক। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং বাঙালি জাতি অর্জন করে বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। মহান বিজয় দিবস প্রতিটি প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যায়।

শেয়ার করুন

মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল

প্রকাশঃ ১১:০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল | ছবি: সংগৃহীত


আজ মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংগ্রাম ও বীরত্বগাথার এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে লাখো শহীদের আত্মত্যাগ ও অসংখ্য মা–বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।

দিবসটির প্রথম প্রহরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্মৃতিসৌধের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদদের সম্মানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এদিন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদও জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢলে জাতীয় স্মৃতিসৌধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ওঠে। দিবসটি ঘিরে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল একটি দিন নয়; এটি বিজয়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার চিরন্তন প্রতীক। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং বাঙালি জাতি অর্জন করে বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। মহান বিজয় দিবস প্রতিটি প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যায়।