হাদিকে গুলি: শুটার ফয়সালের পালানোর রুট ও গাড়ি ভাড়ার তথ্য দিলেন নুরুজ্জামান
- প্রকাশঃ ০৯:২৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 111
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মো. নুরুজ্জামান নোমানী। ছবি: সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন শুটার ফয়সাল করিম মাসুদকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি আদালতে দাবি করেছেন, ঘটনার দিন ফয়সাল একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে ঢাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে শেষে ময়মনসিংহে পালিয়ে যান।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে নুরুজ্জামান নোমানীর রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শুনানিতে নুরুজ্জামান নোমানী জানান, ১২ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টার দিন ফয়সাল করিম মাসুদ একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করেন। তিনি গাড়ির চালককে একাধিকবার স্থান পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। প্রথমে গাড়িটি ঢাকার মৎস্য ভবনের সামনে আসতে বলা হয়। পরে জুমার নামাজের পর গাড়িটি আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজারে পাঠাতে বলা হয়। সেখান থেকে সর্বশেষ ধামরাই উপজেলার কালামপুরে যেতে বলা হয় গাড়িটিকে। পরে কালামপুর থেকে গাড়িতে উঠে ফয়সাল ময়মনসিংহে যান।
গাড়ি ভাড়ার সূত্র ধরেই ফয়সাল করিমের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে আদালতে দাবি করেন নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, গত তিন মাস ধরে ফয়সালের সঙ্গে তার সরাসরি দেখা হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ফয়সাল নিয়মিত গাড়ি ভাড়া নিতেন।
নুরুজ্জামান আরও বলেন, প্রায় নয় মাস আগে থেকে গাড়ি ভাড়ার সূত্রে অনলাইনে ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তবে তিনি কী কাজে গাড়ি ব্যবহার করতেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না।
হত্যাচেষ্টার দিন ফয়সাল পারিবারিক কারণ দেখিয়ে জরুরি ভিত্তিতে গাড়ি ভাড়া চান বলে জানান নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, সেদিন তার নিজের সব গাড়ি ট্রিপে থাকায় প্রথমে তিনি গাড়ি দিতে অপারগতা জানান। পরে বন্ধু সুমনের একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন।
নুরুজ্জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ফয়সাল গাড়িটি মৎস্য ভবনের সামনে পাঠাতে বলেন। পরে সেখানে পৌঁছালে তিনি চালককে জানাতে বলেন যে জুমার পর বিএনপি বাজারে যেতে হবে। বিএনপি বাজারে পৌঁছানোর পর ফয়সাল চালককে কালামপুরে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানিকালে বিচারক নুরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি গাড়িচালককে চেনেন কি না। উত্তরে তিনি জানান, চালককে তিনি চেনেন এবং তাকেও ডিবি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির একজন গুলি চালায়। গুলিতে হাদি মাথায় গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে সংকটাপন্ন অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে শনাক্ত করেছে। তারা হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান (প্রধান সন্দেহভাজন শুটার) এবং আলমগীর হোসেন (মোটরসাইকেল চালক)। এ ছাড়া মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ফয়সাল করিমের স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।





























