ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শাহবাগে সমাবেশ: লড়াই চলবে, তবে কোনো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০১:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 86

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সমাবেশে অংশ নেয়া নেতারা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্য বা ফ্যাসিবাদের জায়গা হবে না, তবে কোনো ‘প্রক্সি’ বা সহিংসতার ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অনুষ্ঠিত আধিপত্যবাদবিরোধী সমাবেশে ডাকসু, ইনকিলাব মঞ্চ, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, আপ বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশ থেকে শাহবাগ মোড়কে শহীদ ওসমান হাদি চত্বর হিসেবে ঘোষণা করেন ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ওসমান হাদির খুনিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

দুপুরে শাহবাগ মোড়ের সড়কে জুমার নামাজ আদায় করেন আন্দোলনকারীরা। এতে ইমামতি করেন মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী। মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ও ইসলামী বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীও উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরের পর ডাকসু ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের নেতৃত্বে শাহবাগ মোড়ের জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে সমাবেশ শুরু হয়। গণ অধিকার পরিষদ, আপ বাংলাদেশ, জাগপাসহ অন্যান্য দল-সংগঠনও সমাবেশে যোগ দেয়। পরে দুই পক্ষ একসঙ্গে বক্তব্য দেন।

সমাবেশে স্লোগানগুলি ছিল নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, আর নয় প্রতিরোধ, এবার হবে প্রতিশোধ, ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান, দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা প্রভৃতি।

ডাকসুর জিএস ও শিবিরের নেতা এস এম ফরহাদ বলেন, দিল্লির তাঁবেদারি এই দেশে আর চলবে না। ভারত-ব্যাকড কোনো মিডিয়া বা রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
আইনজীবী শাহরিয়ার কবির বলেন, একবিন্দু রক্ত থাকলেও ভারতীয় আধিপত্য মেনে নেব না। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টার পদত্যাগ জরুরি।


আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, ওসমান হাদির লড়াই আমরা চালিয়ে যাব। এই দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের কোনো স্থান নেই। তবে কোনো প্রক্সি বা সহিংসতার ফাঁদে আমরা পা দেব না।


অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন এবং বলেন, ভারত আমাদের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়। এবার আমরা প্রতিহিংসা নেব।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, হাদির হত্যায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা আওয়ামী সেবাদাসদের অপসারণ জরুরি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মুনতাছির আহমাদ, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা প্রমুখ। সমাবেশস্থলেই আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করা হয়।
সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক জাহিদুল ইসলাম খালি গলায় সংগীত পরিবেশন করেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ডাকসুর নেতা মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ ও যুবাইর বিন নেছারী।

ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শাহবাগ মোড়ে শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর থেকে সায়েন্স ল্যাব, ফার্মগেট ও পল্টন অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। শুক্রবার সকাল থেকেই হাদি হত্যার বিচার চেয়ে ছোট ছোট মিছিল শুরু হয়। জুমার নামাজের পর ভিড় আরও বাড়ে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। প্রায় ২২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর শাহবাগ মোড় দিয়ে আবারও যান চলাচল শুরু হয়। তিনি জানান, আগামীকাল (শনিবার) দুপুরে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে আধিপত্যবাদবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগ অভিমুখে আয়োজন করা হবে। সবাইকে জানাজায় অংশ নেওয়ার আহবান জানাই।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

শাহবাগে সমাবেশ: লড়াই চলবে, তবে কোনো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না

প্রকাশঃ ০১:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সমাবেশে অংশ নেয়া নেতারা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্য বা ফ্যাসিবাদের জায়গা হবে না, তবে কোনো ‘প্রক্সি’ বা সহিংসতার ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অনুষ্ঠিত আধিপত্যবাদবিরোধী সমাবেশে ডাকসু, ইনকিলাব মঞ্চ, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, আপ বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশ থেকে শাহবাগ মোড়কে শহীদ ওসমান হাদি চত্বর হিসেবে ঘোষণা করেন ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ওসমান হাদির খুনিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

দুপুরে শাহবাগ মোড়ের সড়কে জুমার নামাজ আদায় করেন আন্দোলনকারীরা। এতে ইমামতি করেন মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী। মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ও ইসলামী বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীও উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরের পর ডাকসু ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের নেতৃত্বে শাহবাগ মোড়ের জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে সমাবেশ শুরু হয়। গণ অধিকার পরিষদ, আপ বাংলাদেশ, জাগপাসহ অন্যান্য দল-সংগঠনও সমাবেশে যোগ দেয়। পরে দুই পক্ষ একসঙ্গে বক্তব্য দেন।

সমাবেশে স্লোগানগুলি ছিল নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, আর নয় প্রতিরোধ, এবার হবে প্রতিশোধ, ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান, দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা প্রভৃতি।

ডাকসুর জিএস ও শিবিরের নেতা এস এম ফরহাদ বলেন, দিল্লির তাঁবেদারি এই দেশে আর চলবে না। ভারত-ব্যাকড কোনো মিডিয়া বা রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
আইনজীবী শাহরিয়ার কবির বলেন, একবিন্দু রক্ত থাকলেও ভারতীয় আধিপত্য মেনে নেব না। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টার পদত্যাগ জরুরি।


আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, ওসমান হাদির লড়াই আমরা চালিয়ে যাব। এই দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের কোনো স্থান নেই। তবে কোনো প্রক্সি বা সহিংসতার ফাঁদে আমরা পা দেব না।


অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন এবং বলেন, ভারত আমাদের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়। এবার আমরা প্রতিহিংসা নেব।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, হাদির হত্যায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা আওয়ামী সেবাদাসদের অপসারণ জরুরি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মুনতাছির আহমাদ, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা প্রমুখ। সমাবেশস্থলেই আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করা হয়।
সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক জাহিদুল ইসলাম খালি গলায় সংগীত পরিবেশন করেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ডাকসুর নেতা মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ ও যুবাইর বিন নেছারী।

ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শাহবাগ মোড়ে শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর থেকে সায়েন্স ল্যাব, ফার্মগেট ও পল্টন অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। শুক্রবার সকাল থেকেই হাদি হত্যার বিচার চেয়ে ছোট ছোট মিছিল শুরু হয়। জুমার নামাজের পর ভিড় আরও বাড়ে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। প্রায় ২২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর শাহবাগ মোড় দিয়ে আবারও যান চলাচল শুরু হয়। তিনি জানান, আগামীকাল (শনিবার) দুপুরে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে আধিপত্যবাদবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগ অভিমুখে আয়োজন করা হবে। সবাইকে জানাজায় অংশ নেওয়ার আহবান জানাই।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”