ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড: পুড়ল হাসপাতালসহ ঘরবাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০২:২০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 93

কক্সবাজারের উখিয়ায় আগুনে পুড়েছে একটি বেসরকারি হাসপাতাল। আজ সকালে উখিয়া মধুরছড়া আশ্রয়শিবিরেছবি: সংগৃহীত


কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে একটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা পরিচালিত হাসপাতাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আজ শুক্রবার সকালে মধুরছড়া আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প–৪) ডি–২ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক অগ্নিকাণ্ডে কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বি–ব্লকে পাঁচটি বসতঘর পুড়ে যায়।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালটির নাম ওবাট হেলথ পোস্ট। এটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ওবাট হেলপারস পরিচালনা করে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আগুনে হাসপাতালটির দুটি শেডে থাকা ১৩টি কক্ষসহ বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ওবাট হেলথ পোস্টের স্বাস্থ্য সমন্বয়ক চিকিৎসক মাহামুদুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে পুরো হাসপাতালটি পুড়ে গেছে। এই হাসপাতাল থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারাও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে আসছিলেন।

এদিকে গতকাল রাতে কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বি-ব্লকে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি বসতঘর পুড়ে গেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। ক্যাম্প সূত্র জানায়, ওই আশ্রয়শিবিরে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করেন।

সূত্রগুলো জানায়, বাঁশ ও ত্রিপলের তৈরি বসতঘরগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি লাগানো থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পাশের আরও চারটি ঘরে ছড়িয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আশ্রয়শিবিরের মাঝি আমান উল্লাহ বলেন, আগুন লাগার সময় অধিকাংশ বাসিন্দা ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অগ্নিকাণ্ড নতুন নয়। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক হাজারের বেশি বসতি পুড়ে যায় এবং একজনের মৃত্যু হয়। রোহিঙ্গা নেতাদের তথ্যমতে, গত সাত বছরে আশ্রয়শিবিরে অন্তত ২০০ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। গত এক বছরে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা এসব আশ্রয়শিবিরে প্রবেশ করেছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড: পুড়ল হাসপাতালসহ ঘরবাড়ি

প্রকাশঃ ০২:২০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের উখিয়ায় আগুনে পুড়েছে একটি বেসরকারি হাসপাতাল। আজ সকালে উখিয়া মধুরছড়া আশ্রয়শিবিরেছবি: সংগৃহীত


কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে একটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা পরিচালিত হাসপাতাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আজ শুক্রবার সকালে মধুরছড়া আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প–৪) ডি–২ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক অগ্নিকাণ্ডে কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বি–ব্লকে পাঁচটি বসতঘর পুড়ে যায়।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালটির নাম ওবাট হেলথ পোস্ট। এটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ওবাট হেলপারস পরিচালনা করে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আগুনে হাসপাতালটির দুটি শেডে থাকা ১৩টি কক্ষসহ বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ওবাট হেলথ পোস্টের স্বাস্থ্য সমন্বয়ক চিকিৎসক মাহামুদুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে পুরো হাসপাতালটি পুড়ে গেছে। এই হাসপাতাল থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারাও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে আসছিলেন।

এদিকে গতকাল রাতে কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বি-ব্লকে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি বসতঘর পুড়ে গেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। ক্যাম্প সূত্র জানায়, ওই আশ্রয়শিবিরে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করেন।

সূত্রগুলো জানায়, বাঁশ ও ত্রিপলের তৈরি বসতঘরগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি লাগানো থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পাশের আরও চারটি ঘরে ছড়িয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আশ্রয়শিবিরের মাঝি আমান উল্লাহ বলেন, আগুন লাগার সময় অধিকাংশ বাসিন্দা ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অগ্নিকাণ্ড নতুন নয়। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক হাজারের বেশি বসতি পুড়ে যায় এবং একজনের মৃত্যু হয়। রোহিঙ্গা নেতাদের তথ্যমতে, গত সাত বছরে আশ্রয়শিবিরে অন্তত ২০০ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। গত এক বছরে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা এসব আশ্রয়শিবিরে প্রবেশ করেছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”