কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণে মাদ্রাসার দুটি কক্ষ উড়ে গেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার
- প্রকাশঃ ০৭:১৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 58
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণে একতলা ভবনের পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের ফলে মাদ্রাসার একতলা ভবনের পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে যায় এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে এ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল কাজ করছে। অভিযান এখনো চলমান। প্রাথমিকভাবে ককটেল, দাহ্য পদার্থ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ক্রাইম সিন ইউনিট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল যৌথভাবে কাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসনাবাদ এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। গিয়ে দেখি, মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের চারপাশের দেয়াল উড়ে গেছে। একতলা ভবনের ওই কক্ষগুলোর দেয়াল পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং ছাদ ও বিমে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশের আরও দুটি কক্ষেও ফাটল ধরেছে।
তিনি আরও জানান, মাদ্রাসাটিতে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। এ কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তাঁর স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আবদুল্লাহ (৭)। আহতদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও তাঁর দুই সন্তানকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয়দের মতে, ভবনের এক পাশের তিনটি কক্ষে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অপর পাশের একটি কক্ষে পরিচালক শেখ আল আমিন পরিবারসহ গত তিন বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন।
পাশের ভবনের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আমাদের ভবনের কিছু অংশ ফেটে গেছে। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্রও ভেঙে পড়েছে।
ভবনমালিক পারভীন বেগম বলেন, তিন বছর ধরে আমার বাড়ি ভাড়া নিয়ে মুফতি হারুন মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। তিনি তাঁর শ্যালক আল আমিন ও শ্যালকের স্ত্রী আছিয়াকে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব দেন। আমি নিয়মিত খোঁজখবর নিতাম, কিন্তু মাদ্রাসার আড়ালে কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল, তা বুঝতে পারিনি। আজ এসে দেখি ভবনের চারপাশ উড়ে গেছে। পুলিশ ভেতর থেকে কেমিক্যাল, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত জোরদার করেছে।



























