ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে ফেলানী হত্যার ১৪ বছর: বিচারের অপেক্ষায় এখনো বাবা–মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৩:৪২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 56

ভারত–বাংলাদেশ দুই দেশেই মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে কতবার গেছি। কিন্তু কোনো বিচার পাইনি। নির্বাচনে যে সরকারই আসুক, আমি ফেলানী হত্যার বিচারটা আগে দেখতে চাই। বিচার দেখে মরতে চাই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন সীমান্তে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের বাবা নুরুল ইসলাম।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হন ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তাঁর মরদেহ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকার দৃশ্য দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো বিচার পায়নি ফেলানীর পরিবার। ভারতের উচ্চ আদালতে মামলা ঝুলে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন তাঁর বাবা–মা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম পরিবারসহ ভারতে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন। পরে দেশে মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে ফেরার সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘বিএসএফ আমার মেয়েকে গুলি করে বুকটা খালি করে দিয়েছে। ফেলানী হত্যার ১৪ বছর পেরিয়ে ১৫ বছরে পড়লাম, কিন্তু আজও কোনো বিচার পেলাম না। এত বছর ধরে শুধু আশায় আছি একদিন হয়তো আমার মেয়ের সঠিক বিচার হবে।’

হত্যাকাণ্ডের পর ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আদালত অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন। পরে বিজিবির আপত্তিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনরায় বিচার শুরু হলেও সেখানেও খালাস পান তিনি।

পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’-এর সহায়তায় ভারতের উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম। কয়েক দফা শুনানির তারিখ নির্ধারিত হলেও দীর্ঘ ১৪ বছরেও মামলাটির কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।

নুরুল ইসলাম ও জাহানারা বেগম দম্পতির আট সন্তানের মধ্যে ফেলানী ছিলেন সবার বড়। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া ফেলানী পরিবারের সঙ্গে ভারতে বসবাস করছিলেন। বিয়ের উদ্দেশ্যে দেশে ফেরার পথেই সীমান্তে প্রাণ হারান এই কিশোরী।

আজও সীমান্তে ফেলানী হত্যার বিচার না হওয়া দুই দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও বিচারহীনতার এক বেদনাদায়ক উদাহরণ হয়ে রয়েছে—এমনটাই মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

সীমান্তে ফেলানী হত্যার ১৪ বছর: বিচারের অপেক্ষায় এখনো বাবা–মা

প্রকাশঃ ০৩:৪২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভারত–বাংলাদেশ দুই দেশেই মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে কতবার গেছি। কিন্তু কোনো বিচার পাইনি। নির্বাচনে যে সরকারই আসুক, আমি ফেলানী হত্যার বিচারটা আগে দেখতে চাই। বিচার দেখে মরতে চাই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন সীমান্তে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের বাবা নুরুল ইসলাম।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হন ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তাঁর মরদেহ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকার দৃশ্য দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো বিচার পায়নি ফেলানীর পরিবার। ভারতের উচ্চ আদালতে মামলা ঝুলে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন তাঁর বাবা–মা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম পরিবারসহ ভারতে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন। পরে দেশে মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে ফেরার সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘বিএসএফ আমার মেয়েকে গুলি করে বুকটা খালি করে দিয়েছে। ফেলানী হত্যার ১৪ বছর পেরিয়ে ১৫ বছরে পড়লাম, কিন্তু আজও কোনো বিচার পেলাম না। এত বছর ধরে শুধু আশায় আছি একদিন হয়তো আমার মেয়ের সঠিক বিচার হবে।’

হত্যাকাণ্ডের পর ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আদালত অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন। পরে বিজিবির আপত্তিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনরায় বিচার শুরু হলেও সেখানেও খালাস পান তিনি।

পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’-এর সহায়তায় ভারতের উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম। কয়েক দফা শুনানির তারিখ নির্ধারিত হলেও দীর্ঘ ১৪ বছরেও মামলাটির কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।

নুরুল ইসলাম ও জাহানারা বেগম দম্পতির আট সন্তানের মধ্যে ফেলানী ছিলেন সবার বড়। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া ফেলানী পরিবারের সঙ্গে ভারতে বসবাস করছিলেন। বিয়ের উদ্দেশ্যে দেশে ফেরার পথেই সীমান্তে প্রাণ হারান এই কিশোরী।

আজও সীমান্তে ফেলানী হত্যার বিচার না হওয়া দুই দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও বিচারহীনতার এক বেদনাদায়ক উদাহরণ হয়ে রয়েছে—এমনটাই মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”