ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক: সব গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৯:৪১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 54

বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করার প্রতি নজর রাখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ বিষয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস, আজ রোববার দুপুরে ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে।

প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে আমরা সব সামাজিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বোঝাই-যেমন নারী, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক ও আঞ্চলিক গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু। ভোটে অংশগ্রহণ যাতে বিশ্বাসযোগ্য হয়, সেই বিষয়েও আমরা নজর রাখব।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা অটুট রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ইজাবস বলেন, “জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের মিশন কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকরভাবে মোতায়েন করা এবং মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা রক্ষা—এই ভারসাম্য বজায় রয়েছে কি না, সেটি আমরা মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করব।”

তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগের (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) বিষয়টি গণমাধ্যম প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি প্রার্থীদের নিবন্ধন ও নির্বাচন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকের মধ্য দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (EU EOM) ২৭টি সদস্য দেশ, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। মিশনে ঢাকা ভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি ও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলও অংশ নিচ্ছেন।

প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবস বলেন, এই মিশন বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি অংশীদারিত্বকে প্রতিফলিত করছে। নির্বাচন প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি, প্রচারণা, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মনোযোগ দেব।

ইইউ ইওএম নির্বাচনের দুই দিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং প্রায় দুই মাস পর পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক: সব গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশঃ ০৯:৪১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করার প্রতি নজর রাখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ বিষয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস, আজ রোববার দুপুরে ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে।

প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে আমরা সব সামাজিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বোঝাই-যেমন নারী, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক ও আঞ্চলিক গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু। ভোটে অংশগ্রহণ যাতে বিশ্বাসযোগ্য হয়, সেই বিষয়েও আমরা নজর রাখব।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা অটুট রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ইজাবস বলেন, “জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের মিশন কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকরভাবে মোতায়েন করা এবং মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা রক্ষা—এই ভারসাম্য বজায় রয়েছে কি না, সেটি আমরা মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করব।”

তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগের (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) বিষয়টি গণমাধ্যম প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি প্রার্থীদের নিবন্ধন ও নির্বাচন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকের মধ্য দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (EU EOM) ২৭টি সদস্য দেশ, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। মিশনে ঢাকা ভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি ও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলও অংশ নিচ্ছেন।

প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবস বলেন, এই মিশন বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি অংশীদারিত্বকে প্রতিফলিত করছে। নির্বাচন প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি, প্রচারণা, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মনোযোগ দেব।

ইইউ ইওএম নির্বাচনের দুই দিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং প্রায় দুই মাস পর পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”