শর্ত পূরণ সাপেক্ষে গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ
- প্রকাশঃ ০২:০৪:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 54
ফিলিস্তিনের গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স—আইএসএফ) বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। শফিকুল আলম বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শুরু থেকেই গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ ও গাজার ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত একটি প্রস্তাবে গাজায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই প্রস্তাবের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের সব মুসলিম দেশ ভোট দেয় এবং প্রস্তাবটি পাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে একাধিক আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগ।
প্রেস সচিব বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটের আওতায় আইএসএফ গঠনের গুরুত্ব বাংলাদেশ স্বীকার করে এবং এ বিষয়ে কয়েকটি মুসলিম দেশের আগ্রহের কথাও জানা গেছে। বাংলাদেশও বিষয়টি গভীরভাবে ও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ এবং ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ কিছু শর্ত পূরণ হলে এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে অংশ নিতে আগ্রহী। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—আইএসএফকে অস্থায়ী বাহিনী হতে হবে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি ম্যান্ডেটের অধীনে পরিচালিত হতে হবে; গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকতে হবে; গাজা থেকে সব ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে; এবং গাজার প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের হাতে হস্তান্তর করতে হবে।
শফিকুল আলম বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে আল কুদস আল শরিফকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
এর আগে সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।





























