এলপিজি সংকটে দিশেহারা দেশ: আমদানি কমায় দ্বিগুণ দামেও মিলছে না সিলিন্ডার
- প্রকাশঃ ১১:২২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / 32
দেশে রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। আমদানির ঘাটতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয়ে অনেক জায়গায় নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহক। বিগত বছরের তুলনায় এলপিজি আমদানি প্রায় দেড় লাখ টন কমে যাওয়া এবং লজিস্টিক সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তথ্যমতে, ২০২৩ সালে দেশে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১৬ লাখ ১০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছিল। তবে সর্বশেষ বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টনে। অর্থাৎ, বার্ষিক চাহিদা যেখানে ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, সেখানে আমদানি উল্টো ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে বছরের শেষ তিন মাসে আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় বাজার থেকে মজুতও শেষ হয়ে গেছে।
সংকটের মূল কারণগুলো
বিইআরসি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতে, বর্তমান সংকটের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে:
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা: বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় ১৯৯টি জাহাজের মাধ্যমে এলপিজি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান থেকে সরবরাহ বন্ধ হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের মতো বড় ক্রেতাদের আধিপত্য এই সংকটকে ঘনীভূত করেছে।
আমদানিকারকদের সক্ষমতা: দেশে ৫২টি লাইসেন্সধারী কোম্পানির মধ্যে মাত্র ২৩টির আমদানি সক্ষমতা আছে। তবে নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে আমদানি করছে মাত্র ৮টি কোম্পানি।
নীতিমালা ও প্রশাসনিক জটিলতা: এলপিজি অপারেটর অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক অভিযোগ করেছেন, এক বছর আগে অনেক কোম্পানি আমদানি বৃদ্ধির অনুমতি চাইলেও মন্ত্রণালয় তা সময়মতো অনুমোদন করেনি।
রাজধানীসহ সারা দেশের চিত্র এখন একই। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা তামান্না আখতার জানান, ১ হাজার ৩০৬ টাকার নির্ধারিত সিলিন্ডার তাকে কিনতে হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও আসকারদিঘী এলাকায় ২ হাজার টাকায়ও সিলিন্ডার পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
সংকট এতটাই তীব্র যে, রাজশাহীর অনেক বাসিন্দা গ্যাস না পেয়ে কেরোসিনের চুলা কিংবা ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন। বিক্রেতাদের দাবি, ৭০ শতাংশ সিলিন্ডার বর্তমানে খালি পড়ে আছে এবং পরিবেশকদের কাছ থেকে সরবরাহ মিলছে না।
বিইআরসি জানিয়েছে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: ১. জ্বালানি বিভাগ থেকে এলসি (LC) খোলায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ২. আমদানির অনুমতি সীমা বাড়ানো হয়েছে। ৩. ব্যবসায়ীরা নতুন করে আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
তবে বাজার স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।





























