ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন ভিসা নীতিতে চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১১:৩৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 62

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক কড়াকড়ি ভিসা সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসী ভিসা স্থগিত ও ‘ভিসা বন্ড’ চালুর মতো পদক্ষেপে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকগুলোকে ‘ফলপ্রসূ’ বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে উচ্চমাত্রায় সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, সেসব দেশের জন্য এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হচ্ছে। ২১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে।

এর আগে বাংলাদেশকে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনকারীদের ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ টাকার সমান।

কূটনীতিক ও বিশ্লেষকদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং প্রবাসী যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, উচ্চ জামানতের শর্ত আরোপে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়বে, যা রপ্তানি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবির বলেন, এটি সাময়িক হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি স্পষ্টভাবে নেতিবাচক বার্তা বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন সময়ে এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

মার্কিন ভিসা নীতিতে চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের ওপর

প্রকাশঃ ১১:৩৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক কড়াকড়ি ভিসা সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসী ভিসা স্থগিত ও ‘ভিসা বন্ড’ চালুর মতো পদক্ষেপে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকগুলোকে ‘ফলপ্রসূ’ বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে উচ্চমাত্রায় সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, সেসব দেশের জন্য এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হচ্ছে। ২১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে।

এর আগে বাংলাদেশকে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনকারীদের ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ টাকার সমান।

কূটনীতিক ও বিশ্লেষকদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং প্রবাসী যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, উচ্চ জামানতের শর্ত আরোপে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়বে, যা রপ্তানি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবির বলেন, এটি সাময়িক হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি স্পষ্টভাবে নেতিবাচক বার্তা বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন সময়ে এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”