ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রতিরক্ষা খাতে বড় প্রকল্প নিয়ে সমালোচনার জবাবে যা বললেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৭:৫৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 48

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটা ও নতুন চুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টিকে একটি ‘চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।

আজ সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরকারের এই অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

সরকারের মেয়াদের শেষ মুহূর্তে চীন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জাপানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে জড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান বলেন, “এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।

তবে পরবর্তী সরকার যদি এই প্রতিশ্রুতিগুলো বজায় না রাখে, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ভবিষ্যৎ কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, “এটি একটি অনুমাননির্ভর প্রশ্ন।”

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিরক্ষা খাতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সামরিক কেনাকাটা ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

যুদ্ধবিমান: চীন থেকে জে-১০ সি, পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার এবং ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরো ফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া।

হেলিকপ্টার ও ড্রোন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং চীনের সহযোগিতায় দেশে ড্রোন কারখানা স্থাপনের চুক্তি।

নৌ-শক্তি: দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন ক্রয় এবং ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’-এর আধুনিকায়ন।

সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এমন নজির বিরল—এই মন্তব্যের জবাবে খলিলুর রহমান কিছুটা সপ্রতিভ ভঙ্গিতে বলেন, দুনিয়ার সব দেশে বিমান নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং নির্বাচন নিশ্চিত করা। তবে মেয়াদের শেষ সময়ে এসে প্রতিরক্ষা খাতের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটার বিষয়টি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

প্রতিরক্ষা খাতে বড় প্রকল্প নিয়ে সমালোচনার জবাবে যা বললেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

প্রকাশঃ ০৭:৫৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটা ও নতুন চুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টিকে একটি ‘চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।

আজ সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরকারের এই অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

সরকারের মেয়াদের শেষ মুহূর্তে চীন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জাপানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে জড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান বলেন, “এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।

তবে পরবর্তী সরকার যদি এই প্রতিশ্রুতিগুলো বজায় না রাখে, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ভবিষ্যৎ কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, “এটি একটি অনুমাননির্ভর প্রশ্ন।”

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিরক্ষা খাতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সামরিক কেনাকাটা ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

যুদ্ধবিমান: চীন থেকে জে-১০ সি, পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার এবং ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরো ফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া।

হেলিকপ্টার ও ড্রোন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং চীনের সহযোগিতায় দেশে ড্রোন কারখানা স্থাপনের চুক্তি।

নৌ-শক্তি: দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন ক্রয় এবং ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’-এর আধুনিকায়ন।

সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এমন নজির বিরল—এই মন্তব্যের জবাবে খলিলুর রহমান কিছুটা সপ্রতিভ ভঙ্গিতে বলেন, দুনিয়ার সব দেশে বিমান নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং নির্বাচন নিশ্চিত করা। তবে মেয়াদের শেষ সময়ে এসে প্রতিরক্ষা খাতের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটার বিষয়টি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”