ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে সড়ক থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর একজনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ০৭:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 64

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজন মারা গেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই বছর বয়সী ছেলে শিশুটির মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, মৃত শিশুটির মরদেহ নিতে তার দাদি চট্টগ্রামে এসেছেন। এ বিষয়ে মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকা থেকে চার বছর বয়সী আয়েশা আক্তার ও দুই বছর বয়সী শিশু মোরশেদকে অসহায় অবস্থায় উদ্ধার করেন এক অটোরিকশাচালক। পরে তিনি শিশু দুটিকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

চিকিৎসকদের তথ্যমতে, ছোট শিশুটির জন্মগত জটিলতা এবং বড় শিশুটির চর্মরোগ রয়েছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর শিশু দুটির দায়িত্ব নেয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সূত্র ধরে গত ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাখাওয়াত হোসেনের আদালত আনোয়ারা থানাকে এ বিষয়ে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ‘শিশু আইন ২০১৩’ অনুযায়ী গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে ৫ জানুয়ারির মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশের পর ৩১ ডিসেম্বর পুলিশ শিশুদের বাবা মো. খোরশেদ আলম ও মা ঝিনুক আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করে। এর আগে ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বাঁশখালী উপজেলা থেকে খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খোরশেদ আলম জানান, তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের মহামনি এলাকায়। পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী তাকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তিনি বাঁশখালীর মিয়ারবাজার লস্করপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

তার ভাষ্যমতে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ তিনি পাননি। তিনি আরও দাবি করেন, তার স্ত্রী ছোট প্রতিবন্ধী শিশুটিকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাতেন।

এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে সড়ক থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর একজনের মৃত্যু

প্রকাশঃ ০৭:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজন মারা গেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই বছর বয়সী ছেলে শিশুটির মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, মৃত শিশুটির মরদেহ নিতে তার দাদি চট্টগ্রামে এসেছেন। এ বিষয়ে মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকা থেকে চার বছর বয়সী আয়েশা আক্তার ও দুই বছর বয়সী শিশু মোরশেদকে অসহায় অবস্থায় উদ্ধার করেন এক অটোরিকশাচালক। পরে তিনি শিশু দুটিকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

চিকিৎসকদের তথ্যমতে, ছোট শিশুটির জন্মগত জটিলতা এবং বড় শিশুটির চর্মরোগ রয়েছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর শিশু দুটির দায়িত্ব নেয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সূত্র ধরে গত ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাখাওয়াত হোসেনের আদালত আনোয়ারা থানাকে এ বিষয়ে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ‘শিশু আইন ২০১৩’ অনুযায়ী গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে ৫ জানুয়ারির মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশের পর ৩১ ডিসেম্বর পুলিশ শিশুদের বাবা মো. খোরশেদ আলম ও মা ঝিনুক আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করে। এর আগে ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বাঁশখালী উপজেলা থেকে খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খোরশেদ আলম জানান, তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের মহামনি এলাকায়। পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী তাকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তিনি বাঁশখালীর মিয়ারবাজার লস্করপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

তার ভাষ্যমতে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ তিনি পাননি। তিনি আরও দাবি করেন, তার স্ত্রী ছোট প্রতিবন্ধী শিশুটিকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাতেন।

এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”