ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাফ নদী–সংলগ্ন চিংড়িঘেরে স্থলমাইন বিস্ফোরণ, যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৩:২২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 52

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামের এক যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সোমবার (আজ) সকাল ১০টার দিকে নাফ নদী–সংলগ্ন একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন চিংড়িঘেরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল গ্রামের ফজল করিমের ছেলে। দুর্ঘটনার পর তাঁকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে চিংড়িঘেরে রাখা নৌকার অবস্থা দেখতে গেলে সেখানে পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই হানিফের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ ও হানিফের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

সীমান্ত এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা কয়েকটি দ্বীপের চারপাশ এবং সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এর আগেও এসব স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি জেলেসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাফ নদী–সংলগ্ন মৎস্যখামারে কাজ করার সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে ওই যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা চলছে। এ কারণে সীমান্ত ও নদীসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষকে না যেতে সতর্ক করা হচ্ছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, গত চার দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ এলাকায় আরাকান আর্মির অবস্থানে হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ওপার থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি ছোড়া গুলি, ড্রোন ও মর্টার শেলের অংশ এপারের কিছু ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের ও মাঠে এসে পড়েছে। এ ঘটনায় এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ না শোনা গেলেও পরিস্থিতি এখনো থমথমে। যেকোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে। এ কারণে সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, অনেকেই নির্ঘুম রাত পার করছেন।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মিয়ানমারের ওপারের পরিস্থিতি আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছি। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

নাফ নদী–সংলগ্ন চিংড়িঘেরে স্থলমাইন বিস্ফোরণ, যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন

প্রকাশঃ ০৩:২২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামের এক যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সোমবার (আজ) সকাল ১০টার দিকে নাফ নদী–সংলগ্ন একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন চিংড়িঘেরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল গ্রামের ফজল করিমের ছেলে। দুর্ঘটনার পর তাঁকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে চিংড়িঘেরে রাখা নৌকার অবস্থা দেখতে গেলে সেখানে পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই হানিফের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ ও হানিফের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

সীমান্ত এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা কয়েকটি দ্বীপের চারপাশ এবং সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এর আগেও এসব স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি জেলেসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাফ নদী–সংলগ্ন মৎস্যখামারে কাজ করার সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে ওই যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা চলছে। এ কারণে সীমান্ত ও নদীসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষকে না যেতে সতর্ক করা হচ্ছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, গত চার দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ এলাকায় আরাকান আর্মির অবস্থানে হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ওপার থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি ছোড়া গুলি, ড্রোন ও মর্টার শেলের অংশ এপারের কিছু ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের ও মাঠে এসে পড়েছে। এ ঘটনায় এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ না শোনা গেলেও পরিস্থিতি এখনো থমথমে। যেকোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে। এ কারণে সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, অনেকেই নির্ঘুম রাত পার করছেন।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মিয়ানমারের ওপারের পরিস্থিতি আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছি। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”