ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই স্বপ্নার, চিকিৎসার অভাবে অনিশ্চিত জীবন

তুর্য দাস | সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ০৮:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 76

স্বপ্ন | ছবি: প্রজন্ম কথা


সুনামগঞ্জ পৌরশহরের পশ্চিম তেঘরিয়া এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধূ স্বপ্না আচার্য্যের জীবন আজ মৃত্যুর মুখোমুখি। কয়েক মাস আগেও যে সংসারে ছিল হাসি ও স্বপ্নের আনাগোনা, আজ সেখানে শুধু অনিশ্চয়তা আর আর্তনাদ। গলার সামান্য ব্যথাকে মাছের কাঁটার যন্ত্রণা ভেবে অবহেলা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ব্যথাই যে ভয়ংকর ক্যানসারের রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।

কয়েক মাস আগে হঠাৎ করেই স্বপ্না আচার্য্যের গলায় অস্বস্তি শুরু হয়। খাওয়ার সময় ব্যথা ও খচখচানি বাড়তে থাকে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও তাতে স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। পরে স্বামী নেপাল আচার্য্য তাকে নিয়ে সিলেট ও ময়মনসিংহে বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। একপর্যায়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বায়োপসি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন স্বপ্না আচার্য্য গলার ক্যানসারে আক্রান্ত।

এই দুঃসংবাদে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। কারণ, ক্যানসারের মতো ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা চালানোর মতো কোনো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। স্বপ্নার স্বামী নেপাল আচার্য্য পেশায় একজন পান বিক্রেতা। সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় একটি টিনের টং দোকানে পান বিক্রি করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকদের মতে স্বপ্না আচার্য্যের কেমোথেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসায় অন্তত সাত লাখ টাকার প্রয়োজন। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতেই তাদের জমানো সামান্য সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে পরিবারটি চরম অর্থসংকটে রয়েছে।

স্বপ্নার স্বামী নেপাল আচার্য্য বলেন, আমার স্ত্রীর গলায় ক্যানসার ধরা পড়েছে। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার। আমি সামান্য পান বিক্রি করে সংসার চালাই। এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সবাই সহযোগিতা করলে হয়তো আমার স্ত্রীর চিকিৎসা শুরু করা যাবে।

স্বপ্না আচার্য্য নিজেও বাঁচতে চান নিজের জন্য নয়, সন্তানদের জন্য। তিনি বলেন, ডাক্তার বলেছেন গলায় ক্যানসার। আমার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ছোট মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সবাইকে নিয়ে আমি বাঁচতে চাই।

স্বপ্নার শাশুড়ি মালতি আচার্য্য বলেন, আমার ছেলে কোনো রকমে সংসার চালায়। হঠাৎ করে বউয়ের ক্যানসার ধরা পড়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না। মানুষ যদি একটু সাহায্য করে, তাহলে হয়তো আমার বউমার চিকিৎসা শুরু হবে।

প্রতিবেশীরাও স্বপ্নার চিকিৎসায় সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে হয়তো মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে জিততে পারবেন স্বপ্না আচার্য্য।

সহযোগিতা করতে আগ্রহীরা স্বপ্না আচার্য্যের স্বামী নেপাল আচার্য্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন: ০১৭৩৫-৯৭৬০৭৫

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই স্বপ্নার, চিকিৎসার অভাবে অনিশ্চিত জীবন

প্রকাশঃ ০৮:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

স্বপ্ন | ছবি: প্রজন্ম কথা


সুনামগঞ্জ পৌরশহরের পশ্চিম তেঘরিয়া এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধূ স্বপ্না আচার্য্যের জীবন আজ মৃত্যুর মুখোমুখি। কয়েক মাস আগেও যে সংসারে ছিল হাসি ও স্বপ্নের আনাগোনা, আজ সেখানে শুধু অনিশ্চয়তা আর আর্তনাদ। গলার সামান্য ব্যথাকে মাছের কাঁটার যন্ত্রণা ভেবে অবহেলা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ব্যথাই যে ভয়ংকর ক্যানসারের রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।

কয়েক মাস আগে হঠাৎ করেই স্বপ্না আচার্য্যের গলায় অস্বস্তি শুরু হয়। খাওয়ার সময় ব্যথা ও খচখচানি বাড়তে থাকে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও তাতে স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। পরে স্বামী নেপাল আচার্য্য তাকে নিয়ে সিলেট ও ময়মনসিংহে বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। একপর্যায়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বায়োপসি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন স্বপ্না আচার্য্য গলার ক্যানসারে আক্রান্ত।

এই দুঃসংবাদে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। কারণ, ক্যানসারের মতো ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা চালানোর মতো কোনো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। স্বপ্নার স্বামী নেপাল আচার্য্য পেশায় একজন পান বিক্রেতা। সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় একটি টিনের টং দোকানে পান বিক্রি করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকদের মতে স্বপ্না আচার্য্যের কেমোথেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসায় অন্তত সাত লাখ টাকার প্রয়োজন। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতেই তাদের জমানো সামান্য সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে পরিবারটি চরম অর্থসংকটে রয়েছে।

স্বপ্নার স্বামী নেপাল আচার্য্য বলেন, আমার স্ত্রীর গলায় ক্যানসার ধরা পড়েছে। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার। আমি সামান্য পান বিক্রি করে সংসার চালাই। এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সবাই সহযোগিতা করলে হয়তো আমার স্ত্রীর চিকিৎসা শুরু করা যাবে।

স্বপ্না আচার্য্য নিজেও বাঁচতে চান নিজের জন্য নয়, সন্তানদের জন্য। তিনি বলেন, ডাক্তার বলেছেন গলায় ক্যানসার। আমার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ছোট মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সবাইকে নিয়ে আমি বাঁচতে চাই।

স্বপ্নার শাশুড়ি মালতি আচার্য্য বলেন, আমার ছেলে কোনো রকমে সংসার চালায়। হঠাৎ করে বউয়ের ক্যানসার ধরা পড়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না। মানুষ যদি একটু সাহায্য করে, তাহলে হয়তো আমার বউমার চিকিৎসা শুরু হবে।

প্রতিবেশীরাও স্বপ্নার চিকিৎসায় সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে হয়তো মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে জিততে পারবেন স্বপ্না আচার্য্য।

সহযোগিতা করতে আগ্রহীরা স্বপ্না আচার্য্যের স্বামী নেপাল আচার্য্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন: ০১৭৩৫-৯৭৬০৭৫

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”