ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শীতে সুনামগঞ্জ শহরে নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা পুরোনো শীতবস্ত্রের বাজার

তুর্য দাস। সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ১০:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 37

সুনামগঞ্জ জেলায় শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে পুরোনো শীতবস্ত্রের বাজার। গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় শীতবস্ত্র কেনাকাটায় বেড়েছে মানুষের আগ্রহ, বিশেষ করে পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকান ও ফুটপাতের অস্থায়ী বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের আলফাত স্কয়ার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মধ্যবাজার, কালীবাড়ি রোড, পৌরবিপনি, মুক্তারপাড়া ও রায়পাড়ার বিভিন্ন মার্কেটে পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা চলছে। সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত এসব এলাকায় ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

দোকানগুলোতে সোয়েটার, জ্যাকেট, কোট, মাফলার, উলেন শাল এবং শিশুদের বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের এসব পোশাক দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, হকার ও কৃষকদের কাছে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিক্রেতারা বলছেন, শীত যত বাড়ছে, ক্রেতার সংখ্যাও তত বাড়ছে।

ইব্রাহীমপুর এলাকার পুরোনো কাপড় বিক্রেতা রনি বলেন, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো কাপড়ের চাহিদাও বেড়েছে। বেচাকেনা ভালোই চলছে। শিশুদের সোয়েটার, ফুল প্যান্ট ও জ্যাকেটসহ সব ধরনের শীতের পোশাক রয়েছে। ৩০ টাকা থেকে শুরু করে তুলনামূলক দামি পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে।

রিকশাচালক জামাল বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার শীত বেশি পড়েছে। আগের গরম কাপড়ে আর কাজ হচ্ছিল না। তাই নিজের ও পরিবারের জন্য এখান থেকে শীতের কাপড় কিনেছেন। দামের তুলনায় কাপড়ের মান ভালো এবং তার সামর্থ্যের মধ্যেই রয়েছে বলে জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সদরগর গ্রামের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী উপেন্দ্র চন্দ্র বলেন, শীত বাড়লেও প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচাকেনা এখনও হচ্ছে না। তবে আগের তুলনায় বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।

মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন থেকে শীতের পোশাক কিনতে আসা ওয়ারিস আলী বলেন, তিনি ভাইদের জন্য তিনটি জ্যাকেট কিনেছেন। প্রতিটি ৩০০ টাকা করে মোট ৯০০ টাকায় পেয়েছেন। পরিচিত দোকান হওয়ায় কিছুটা কম দামে কিনতে পেরেছেন বলেও জানান।

এদিকে গৌরারং ইউনিয়নের পুরান লক্ষণশ্রী গ্রামের দিলোয়ার হোসেন দুই জোড়া মৌজা কিনেছেন ১২০ টাকায়। তিনি বলেন, “শীত বেশি হওয়ায় মৌজা কিনেছি। প্রতিজোড়া ৬০ টাকা করে নিয়েছে।”

সদর উপজেলার সুনাপুর গ্রামের মো. জিয়াদুল ইসলাম বলেন, বাজারে ভালো মানের শীতের পোশাক পাওয়ায় তিনি এখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী কাপড় কিনতে এসেছেন। তার মতো অনেকেই সামর্থ্যের মধ্যে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করছেন।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী দিনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে পুরোনো শীতবস্ত্রের বাজারে বেচাকেনা আরও বাড়বে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

শীতে সুনামগঞ্জ শহরে নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা পুরোনো শীতবস্ত্রের বাজার

প্রকাশঃ ১০:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলায় শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে পুরোনো শীতবস্ত্রের বাজার। গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় শীতবস্ত্র কেনাকাটায় বেড়েছে মানুষের আগ্রহ, বিশেষ করে পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকান ও ফুটপাতের অস্থায়ী বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের আলফাত স্কয়ার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মধ্যবাজার, কালীবাড়ি রোড, পৌরবিপনি, মুক্তারপাড়া ও রায়পাড়ার বিভিন্ন মার্কেটে পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা চলছে। সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত এসব এলাকায় ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

দোকানগুলোতে সোয়েটার, জ্যাকেট, কোট, মাফলার, উলেন শাল এবং শিশুদের বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের এসব পোশাক দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, হকার ও কৃষকদের কাছে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিক্রেতারা বলছেন, শীত যত বাড়ছে, ক্রেতার সংখ্যাও তত বাড়ছে।

ইব্রাহীমপুর এলাকার পুরোনো কাপড় বিক্রেতা রনি বলেন, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো কাপড়ের চাহিদাও বেড়েছে। বেচাকেনা ভালোই চলছে। শিশুদের সোয়েটার, ফুল প্যান্ট ও জ্যাকেটসহ সব ধরনের শীতের পোশাক রয়েছে। ৩০ টাকা থেকে শুরু করে তুলনামূলক দামি পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে।

রিকশাচালক জামাল বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার শীত বেশি পড়েছে। আগের গরম কাপড়ে আর কাজ হচ্ছিল না। তাই নিজের ও পরিবারের জন্য এখান থেকে শীতের কাপড় কিনেছেন। দামের তুলনায় কাপড়ের মান ভালো এবং তার সামর্থ্যের মধ্যেই রয়েছে বলে জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সদরগর গ্রামের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী উপেন্দ্র চন্দ্র বলেন, শীত বাড়লেও প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচাকেনা এখনও হচ্ছে না। তবে আগের তুলনায় বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।

মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন থেকে শীতের পোশাক কিনতে আসা ওয়ারিস আলী বলেন, তিনি ভাইদের জন্য তিনটি জ্যাকেট কিনেছেন। প্রতিটি ৩০০ টাকা করে মোট ৯০০ টাকায় পেয়েছেন। পরিচিত দোকান হওয়ায় কিছুটা কম দামে কিনতে পেরেছেন বলেও জানান।

এদিকে গৌরারং ইউনিয়নের পুরান লক্ষণশ্রী গ্রামের দিলোয়ার হোসেন দুই জোড়া মৌজা কিনেছেন ১২০ টাকায়। তিনি বলেন, “শীত বেশি হওয়ায় মৌজা কিনেছি। প্রতিজোড়া ৬০ টাকা করে নিয়েছে।”

সদর উপজেলার সুনাপুর গ্রামের মো. জিয়াদুল ইসলাম বলেন, বাজারে ভালো মানের শীতের পোশাক পাওয়ায় তিনি এখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী কাপড় কিনতে এসেছেন। তার মতো অনেকেই সামর্থ্যের মধ্যে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করছেন।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী দিনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে পুরোনো শীতবস্ত্রের বাজারে বেচাকেনা আরও বাড়বে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”