ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটে বিয়ের ১৬ দিনের মাথায় আগুনে দগ্ধ হয়ে নববধূর মৃত্যু, স্বামী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০২:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 19

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বিয়ের মাত্র ১৬ দিনের মাথায় আগুনে দগ্ধ হয়ে রেছনা বেগম (২৩) নামের এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী আবদুল মালিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত রেছনা বেগম বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের দ্বীপবন্দ বিলপাড় গ্রামের আবদুল মালিকের স্ত্রী এবং অলংকারী ইউনিয়নের আলমনগর গ্রামের আবদুশ শহীদ সরকারের মেয়ে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়।

রেছনার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। পরিকল্পিতভাবে তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে স্বামীর বাড়িতে আগুনে দগ্ধ হন রেছনা বেগম। প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, আবদুল মালিকের পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ওই দিন সকালে তিনি তাঁর বড় ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য সিলেট শহরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তখন ঘরে ছিলেন শুধু রেছনা বেগম এবং আবদুল মালিকের আট বছর বয়সী এক ভাগনি। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রান্নাঘর থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে রেছনাকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন।

নিহতের চাচা আবদুল সাত্তার অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন রেছনাকে নির্যাতনের পর আগুনে পুড়িয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, দ্রুত এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে আবদুল মালিককে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রেছনা বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

সিলেটে বিয়ের ১৬ দিনের মাথায় আগুনে দগ্ধ হয়ে নববধূর মৃত্যু, স্বামী কারাগারে

প্রকাশঃ ০২:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বিয়ের মাত্র ১৬ দিনের মাথায় আগুনে দগ্ধ হয়ে রেছনা বেগম (২৩) নামের এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী আবদুল মালিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত রেছনা বেগম বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের দ্বীপবন্দ বিলপাড় গ্রামের আবদুল মালিকের স্ত্রী এবং অলংকারী ইউনিয়নের আলমনগর গ্রামের আবদুশ শহীদ সরকারের মেয়ে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়।

রেছনার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। পরিকল্পিতভাবে তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে স্বামীর বাড়িতে আগুনে দগ্ধ হন রেছনা বেগম। প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, আবদুল মালিকের পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ওই দিন সকালে তিনি তাঁর বড় ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য সিলেট শহরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তখন ঘরে ছিলেন শুধু রেছনা বেগম এবং আবদুল মালিকের আট বছর বয়সী এক ভাগনি। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রান্নাঘর থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে রেছনাকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন।

নিহতের চাচা আবদুল সাত্তার অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন রেছনাকে নির্যাতনের পর আগুনে পুড়িয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, দ্রুত এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে আবদুল মালিককে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রেছনা বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”