ঢাকা ০৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে উত্তেজনা, জামায়াত কার্যালয়ে তালা দিয়ে জেলা আমিরকে অবরুদ্ধ

তুর্য দাস। সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ০৮:১০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 41

সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ঠেকাতে জেলা কার্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে দলটির জেলা আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদকে কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জেলা আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদ। তবে ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি শরিক দল বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মনোনয়ন প্রত্যাহার ঠেকাতে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে মাওলানা তোফায়েল আহমদকে কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকেও কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিকেল পর্যন্ত তারা কার্যালয়ের ভেতরেই অবস্থান করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর উপজেলায় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মাওলানা তোফায়েল আহমদকে প্রার্থী ধরে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সম্ভাবনার খবরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা জানান, দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। শেষ মুহূর্তে এসে আসনটি অন্য দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মোমতাজুল হাসান আবেদ বলেন, আগে আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে হবে, তবে কর্মীদের আবেগ ও অনুভূতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। তফসিল অনুযায়ী বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে উত্তেজনা, জামায়াত কার্যালয়ে তালা দিয়ে জেলা আমিরকে অবরুদ্ধ

প্রকাশঃ ০৮:১০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ঠেকাতে জেলা কার্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে দলটির জেলা আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদকে কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জেলা আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদ। তবে ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি শরিক দল বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মনোনয়ন প্রত্যাহার ঠেকাতে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে মাওলানা তোফায়েল আহমদকে কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকেও কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিকেল পর্যন্ত তারা কার্যালয়ের ভেতরেই অবস্থান করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর উপজেলায় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মাওলানা তোফায়েল আহমদকে প্রার্থী ধরে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সম্ভাবনার খবরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা জানান, দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। শেষ মুহূর্তে এসে আসনটি অন্য দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মোমতাজুল হাসান আবেদ বলেন, আগে আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে হবে, তবে কর্মীদের আবেগ ও অনুভূতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। তফসিল অনুযায়ী বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”