দুমকীতে পদ্মা ব্যাংকে লেনদেন সংকট: গ্রাহকের টাকা তুলতে হিমশিম, ভোগান্তি চরমে
- প্রকাশঃ ০৮:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 69
পটুয়াখালীর দুমকীতে পদ্মা ব্যাংকের লেনদেন পরিস্থিতি দিন দিন চরম উদ্বেগের দিকে যাচ্ছে। উপজেলা সদরের পদ্মা ব্যাংক দুমকি শাখায় প্রতিদিন অর্থ উত্তোলনের জন্য ভিড় করছেন গ্রাহকেরা। তবে অধিকাংশই হতাশ হয়ে ফিরছেন—জমা রাখা টাকাই তুলতে পারছেন না তাঁরা। বিশেষ প্রয়োজনে টাকা না পেয়ে চিকিৎসা, ব্যবসা ও পারিবারিক খরচে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেকেই।
দুমকি শাখায় চার হাজারের বেশি হিসাবধারী রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই টাকার অপ্রতুলতায় ব্যাংকটির টানাপোড়েন চলছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোর মতো পদ্মা ব্যাংকের লেনদেনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নতুন করে টাকা জমা কমে যাওয়ায় তৈরি হয় তারল্যঘাটতি, আর তারই প্রভাবে গ্রাহকদের জমা টাকা ফেরত দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যাংকটিকে।
আংগারিয়ার বাহেরচরের রোগীবৃদ্ধ জসিম উদ্দিন কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
সুবিধা–অসুবিধায় তুলতে পারব ভেবে পাঁচ লাখ টাকা রেখেছিলাম। এখন চিকিৎসার জন্য জরুরি টাকা দরকার। ব্যাংকে আসলাম—বলছে টাকা দিতে পারবে না! আমার তো আর কিছুই করার নেই।
লেবুখালি থেকে আসা রিপন জানান,
দেড় হাজার টাকা খরচ করে দশ মাস ব্যাংকে ঘুরেছি। এত দিনে মাত্র দুই হাজার টাকা তুলতে পেরেছি। কর্মকর্তারা শুধু বলেন—টাকা নেই, পরে আসবেন।
শ্রীরামপুরের মফিজ গাজীর কষ্ট আরও গভীর—
আমার দুই প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য কিছু টাকা রেখেছিলাম। এখন সেই টাকাই পাচ্ছি না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও গভীর সংকটে।
পিরতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান খান বলেন,
ব্যবসার প্রয়োজনে রাখা টাকাই তুলতে পারছি না। প্রতিদিন সমস্যার মাত্রা বাড়ছে।
নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম সরদারের অভিযোগ—
টাকা আটকে যাওয়ায় ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন,
ব্যাংকে ভালো পরিমাণ টাকা আছে। কিন্তু ব্যাংক দিতে পারছে না। ব্যবসা প্রায় অচল অবস্থায়।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পদ্মা ব্যাংক দুমকি শাখার ব্যবস্থাপক শাহিনুর আক্তার এবং ব্যাংকের পাবলিক রিলেশন বিভাগ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁদের নীরবতা গ্রাহকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
গ্রাহকদের দাবি—দ্রুত তারল্য সংকট দূর করে লেনদেন স্বাভাবিক না হলে দুমকীর ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মহল এখনই উদ্যোগ না নিলে গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দুমকীর মানুষের একটাই প্রশ্ন—
ব্যাংকে জমা রাখা আমাদের টাকাগুলো আমরা কবে পাব?





























