ঢাকা ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটের আগে আর্থিক লেনদেনে নিয়ন্ত্রণ, বিকাশ–রকেট–নগদে নতুন সীমা নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১২:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 11

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের লেনদেনে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা।

এ ছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে (পারসন টু পারসন) অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার রোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে লেনদেনের পরিমাণ প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য কমবেশি হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থ লেনদেন সীমিত করা হবে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

লেনদেন সীমার পরিবর্তন

বর্তমানে বিকাশ, রকেট ও নগদসহ এমএফএস গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা লেনদেন করতে পারেন। এক দিনে সর্বোচ্চ ৫০টি ও মাসে ১০০টি লেনদেনের সুযোগ রয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহককে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন। লেনদেন করা যাবে সর্বোচ্চ ১০ বার এবং প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে এক হাজার টাকা।

এদিকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তরের সুবিধাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএফআইইউ। বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে ও পূবালী ব্যাংকের পাই অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। নির্বাচনের সময় এই সুবিধা বন্ধ রাখার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নগদ উত্তোলনে কড়া নজরদারি

নির্বাচনকে সামনে রেখে নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো হিসাবে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিএফআইইউর কাছে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) জমা দিতে হবে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে সিটিআর জমা না দিলে বা ভুল তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এসব পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনী সময়ে অর্থের অপব্যবহার ও অস্বাভাবিক লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

ভোটের আগে আর্থিক লেনদেনে নিয়ন্ত্রণ, বিকাশ–রকেট–নগদে নতুন সীমা নির্ধারণ

প্রকাশঃ ১২:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের লেনদেনে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা।

এ ছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে (পারসন টু পারসন) অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার রোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে লেনদেনের পরিমাণ প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য কমবেশি হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থ লেনদেন সীমিত করা হবে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

লেনদেন সীমার পরিবর্তন

বর্তমানে বিকাশ, রকেট ও নগদসহ এমএফএস গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা লেনদেন করতে পারেন। এক দিনে সর্বোচ্চ ৫০টি ও মাসে ১০০টি লেনদেনের সুযোগ রয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহককে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন। লেনদেন করা যাবে সর্বোচ্চ ১০ বার এবং প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে এক হাজার টাকা।

এদিকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তরের সুবিধাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএফআইইউ। বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে ও পূবালী ব্যাংকের পাই অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। নির্বাচনের সময় এই সুবিধা বন্ধ রাখার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নগদ উত্তোলনে কড়া নজরদারি

নির্বাচনকে সামনে রেখে নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো হিসাবে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিএফআইইউর কাছে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) জমা দিতে হবে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে সিটিআর জমা না দিলে বা ভুল তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এসব পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনী সময়ে অর্থের অপব্যবহার ও অস্বাভাবিক লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”