ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাদা দল’ গঠনের চেষ্টা: নিষিদ্ধ রাজনীতির ফেরে শিক্ষকেরা

  • প্রকাশঃ ০৩:১৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
  • / 123

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও, সম্প্রতি শিক্ষকদের একটি অংশের মধ্যে ‘সাদা দল’ গঠনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরির উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ১৩ মে উপাচার্য হিসেবে ড. তৌফিক আলমের নিয়োগের দিন বিএনপি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষক হঠাৎ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সাদা দল গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে খবর ছড়ায়। সহকারী অধ্যাপক ড. মাহফুজ আলম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ এবং একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষক আব্দুল আলিম বছির—এই তিনজনের নেতৃত্বে সাদা দল গঠনের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

তবে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত হলেও, তিনি এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে ববি-তে থেকে ১০ জন শিক্ষক বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত। তাদের মধ্যে রয়েছেন—রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ, একাউন্টিং বিভাগের আব্দুল আলিম বছির শাহাদাৎ হোসেন, রসায়ন বিভাগের গাজী জহিরুল ইসলাম ড. নাহিদা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের রিফাত ফেরদাউস, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ড. মাহফুজ আলম, মার্কেটিং বিভাগের মো. মেহেদী হাসান এবং গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের ইমরান হোসেন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এর আগে কখনো বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের নিয়ে আলাদা কোনো শিক্ষক সংগঠন গঠনের ঘটনা ঘটেনি। ২০১৭ সালে একবার ‘নীল দল’ নামে একটি শিক্ষক সংগঠন গঠিত হলেও তা মূলত আওয়ামী লীগপন্থীদের ভেতরকার বিভাজনের ফল ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপাচার্য শুচিতা শরমিনকে আন্দোলনের মুখে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ বলেন, “আগস্টের পর থেকেই বিএনপিপন্থী কিছু শিক্ষক মিলে সাদা দল গঠনের চেষ্টা করছেন। এখন বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে কিছু শিক্ষকের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে বলেও শুনছি।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ইনজাম শাওন বলেন, “এর আগে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষকের কথা জানতাম, তবে সাদা দলের বিষয়ে কখনো শুনিনি। এখন জানা যাচ্ছে তারা এক হয়ে শিক্ষকদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন, এমনকি কিছু ছাত্রদের সাথেও বৈঠক করেছেন।”

শিক্ষকদের বক্তব্য
বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক ড. মাহফুজ আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ, আমরা সেটার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতি করছি না।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক রাজনীতি চায়, তাহলে তা শুরু হতে পারে। তবে শিক্ষকদের সাদা দল গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”

ভিসি বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শিক্ষক জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনো রঙের রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়। আমাদের উচিত গবেষণা পাঠদানে আরও মনোযোগী হওয়া।”


বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে নতুন একটি বলয়ের আবির্ভাব নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ‘সাদা দল’ গঠনের গুঞ্জন শুধু ক্যাম্পাস নয়, সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টির যথাযথ তদন্ত এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদক: আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন-“প্রজন্ম কথা

শেয়ার করুন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাদা দল’ গঠনের চেষ্টা: নিষিদ্ধ রাজনীতির ফেরে শিক্ষকেরা

প্রকাশঃ ০৩:১৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও, সম্প্রতি শিক্ষকদের একটি অংশের মধ্যে ‘সাদা দল’ গঠনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরির উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ১৩ মে উপাচার্য হিসেবে ড. তৌফিক আলমের নিয়োগের দিন বিএনপি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষক হঠাৎ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সাদা দল গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে খবর ছড়ায়। সহকারী অধ্যাপক ড. মাহফুজ আলম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ এবং একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষক আব্দুল আলিম বছির—এই তিনজনের নেতৃত্বে সাদা দল গঠনের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

তবে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত হলেও, তিনি এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে ববি-তে থেকে ১০ জন শিক্ষক বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত। তাদের মধ্যে রয়েছেন—রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ, একাউন্টিং বিভাগের আব্দুল আলিম বছির শাহাদাৎ হোসেন, রসায়ন বিভাগের গাজী জহিরুল ইসলাম ড. নাহিদা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের রিফাত ফেরদাউস, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ড. মাহফুজ আলম, মার্কেটিং বিভাগের মো. মেহেদী হাসান এবং গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের ইমরান হোসেন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এর আগে কখনো বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের নিয়ে আলাদা কোনো শিক্ষক সংগঠন গঠনের ঘটনা ঘটেনি। ২০১৭ সালে একবার ‘নীল দল’ নামে একটি শিক্ষক সংগঠন গঠিত হলেও তা মূলত আওয়ামী লীগপন্থীদের ভেতরকার বিভাজনের ফল ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপাচার্য শুচিতা শরমিনকে আন্দোলনের মুখে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ বলেন, “আগস্টের পর থেকেই বিএনপিপন্থী কিছু শিক্ষক মিলে সাদা দল গঠনের চেষ্টা করছেন। এখন বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে কিছু শিক্ষকের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে বলেও শুনছি।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ইনজাম শাওন বলেন, “এর আগে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষকের কথা জানতাম, তবে সাদা দলের বিষয়ে কখনো শুনিনি। এখন জানা যাচ্ছে তারা এক হয়ে শিক্ষকদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন, এমনকি কিছু ছাত্রদের সাথেও বৈঠক করেছেন।”

শিক্ষকদের বক্তব্য
বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক ড. মাহফুজ আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ, আমরা সেটার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতি করছি না।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক রাজনীতি চায়, তাহলে তা শুরু হতে পারে। তবে শিক্ষকদের সাদা দল গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”

ভিসি বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শিক্ষক জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনো রঙের রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়। আমাদের উচিত গবেষণা পাঠদানে আরও মনোযোগী হওয়া।”


বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে নতুন একটি বলয়ের আবির্ভাব নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ‘সাদা দল’ গঠনের গুঞ্জন শুধু ক্যাম্পাস নয়, সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টির যথাযথ তদন্ত এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদক: আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন-“প্রজন্ম কথা