জবিতে গবেষণা–বিতর্কিত প্রার্থী সুপারিশে ক্ষোভ, প্রশ্নের মুখে দর্শন বিভাগের নিয়োগ প্রক্রিয়া
- প্রকাশঃ ০৫:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 100
ছবি: সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দর্শন বিভাগে নতুন শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের মেয়াদ ১৫ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এর ঠিক আগে ২৯ নভেম্বর তিনি নতুন নিয়োগ বোর্ড আহ্বান করায় শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে বোর্ড ডেকে তিনি ‘পছন্দের প্রার্থী’ নিয়োগের চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে— নিজ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে বাইরের ও সমালোচিত কয়েকজনকে নিয়োগের জন্য তদবির চলছে।
জকসু নির্বাচনকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ- কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন, চলমান জকসু নির্বাচনকে ‘আড়াল’ হিসেবে ব্যবহার করে অধ্যাপক হাফিজুল নিজের নিয়োগ–সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. তাজাম্মুল হকের সঙ্গে তার ঘনিষ্টতাও ক্যাম্পাসে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই বিভিন্ন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আগের অভিযোগও ‘অমীমাংসিত।’
অধ্যাপক হাফিজুলের বিরুদ্ধে পূর্বেও নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গবেষণায় অনিয়ম, দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণসহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীরা বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত–কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি।
এ ছাড়া, ‘জুলাই গণহত্যা’ বিষয়ক রায়ের বিরুদ্ধে ‘এক হাজার একজন’ শিক্ষক যে-সব বিবৃতি দিয়েছিলেন- সেই তালিকায়ও তার নাম রয়েছে বলে কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন। তারা বলেন, এসব বিতর্ক সত্ত্বেও প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্ন তুলছে।
এছাড়া, অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শাওন, জবি শিক্ষার্থী মৌসুমি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাওহে মাহফুজ— এই তিনজনের নাম নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
অধ্যাপক ড. হাফিজুল ইসলামের সাথে যৌথ গবেষণা থাকা এবং সে গবেষণা প্রবন্ধ জালিয়াতি করা শিক্ষার্থী শাওন শেখ এর নিয়োগ বাতিলসহ নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদনও জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জবি দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনে করা হচ্ছে নিয়োগ বোর্ডে সুপারিশ।



























