ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাফিউল করিম হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

হামিম মণ্ডল | গবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ০৩:৫১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 101

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ফার্মেসি বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিউল করিম সোহান (২৩) হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে শুরু হয়ে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের বাইশমাইলে ‘জ্ঞানের প্রবেশদ্বার’ সংলগ্ন প্রধান গেইটের সামনে অবস্থান নিয়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান দেন—‘নাফিউল হত্যার বিচার চাই, ঘাতকদের ফাঁসি চাই’, ‘ঘাতকদের গ্রেফতার করো, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করো’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?’

নাফিউলের সহপাঠী শফিকুল ইসলাম শিপন বলেন, “আমার বন্ধুকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আজ সেই হুমকিরই মর্মান্তিক পরিণতি আমরা দেখলাম। ছাত্রসমাজ শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তালবাহানা আমরা বরদাস্ত করব না। সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব। প্রয়োজনে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক থেকে পাবনা কোর্ট পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু)–এর কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুর রহিম বলেন, “নাফিউলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—ঘটনার পর তাঁর কাকা, কাকাতো ভাই ও ভাতিজাবউ হত্যাকাণ্ডটি গোপনের চেষ্টা করেছেন। পরিবার মামলা তুলতে চাপের মুখে রয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার না করা হলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। পাশাপাশি নাফিউলের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

ফার্মেসি বিভাগের প্রধান ড. মোছা. রোজিনা পারুল বলেন, “মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে আমরা বিভাগের আরেক মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারালাম। প্রশাসনকে অনুরোধ করছি, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, “একজন প্রতিশ্রুতিবান শিক্ষার্থীকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। পরিবার জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জিডি করা হবে, যাতে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।”

মানববন্ধনে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান, ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, নিহত নাফিউল করিম সোহান পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামের রেজাউল করিম ও নাসিমা আক্তার দম্পতির সন্তান। তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

নাফিউল করিম হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

প্রকাশঃ ০৩:৫১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ফার্মেসি বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিউল করিম সোহান (২৩) হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে শুরু হয়ে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের বাইশমাইলে ‘জ্ঞানের প্রবেশদ্বার’ সংলগ্ন প্রধান গেইটের সামনে অবস্থান নিয়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান দেন—‘নাফিউল হত্যার বিচার চাই, ঘাতকদের ফাঁসি চাই’, ‘ঘাতকদের গ্রেফতার করো, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করো’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?’

নাফিউলের সহপাঠী শফিকুল ইসলাম শিপন বলেন, “আমার বন্ধুকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আজ সেই হুমকিরই মর্মান্তিক পরিণতি আমরা দেখলাম। ছাত্রসমাজ শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তালবাহানা আমরা বরদাস্ত করব না। সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব। প্রয়োজনে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক থেকে পাবনা কোর্ট পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু)–এর কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুর রহিম বলেন, “নাফিউলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—ঘটনার পর তাঁর কাকা, কাকাতো ভাই ও ভাতিজাবউ হত্যাকাণ্ডটি গোপনের চেষ্টা করেছেন। পরিবার মামলা তুলতে চাপের মুখে রয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার না করা হলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। পাশাপাশি নাফিউলের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

ফার্মেসি বিভাগের প্রধান ড. মোছা. রোজিনা পারুল বলেন, “মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে আমরা বিভাগের আরেক মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারালাম। প্রশাসনকে অনুরোধ করছি, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, “একজন প্রতিশ্রুতিবান শিক্ষার্থীকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। পরিবার জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জিডি করা হবে, যাতে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।”

মানববন্ধনে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান, ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, নিহত নাফিউল করিম সোহান পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামের রেজাউল করিম ও নাসিমা আক্তার দম্পতির সন্তান। তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”