ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ১৪৬তম জন্মদিনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রদ্ধা ও স্মরণ

মো. জিসান রহমান | মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ০৬:৩০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 109

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪৬তম জন্মদিন আজ শুক্রবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধায় পালিত হচ্ছে। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভোর থেকেই টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাঁর মাজার প্রাঙ্গণে নানা কর্মসূচি শুরু হয়। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) প্রশাসনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সকালে তাঁর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ে আজীবন সংগ্রামী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিককার স্বপ্নদ্রষ্টাদের একজন ছিলেন মওলানা ভাসানী। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান আজও বাঙালির অনুপ্রেরণার উৎস।

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া পল্লীতে জন্ম নেওয়া ভাসানী শৈশবে ‘চেগা মিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন। দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হলেও সত্যনিষ্ঠা, ধর্মচিন্তা ও ন্যায়বোধ তাঁকে আলাদা করে তোলে। ১৯০৭ সালে দেওবন্দে ইসলামি শিক্ষাগ্রহণ শেষে তিনি দেশে ফিরে আসাম অঞ্চলে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯১৯ সালে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন এবং খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারাবরণ করেন। ১৯২৬ সালে কৃষক-প্রজা আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং ১৯২৯ সালের ঐতিহাসিক ভাসানচর সম্মেলনের পর তাঁর নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয় ‘ভাসানী’ উপাধি।

বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, ১৯৬৪–৬৯ সালের বিভিন্ন গণআন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন দৃঢ় ও অগ্রণী নেতৃত্বের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান তাঁকে আরও প্রভাবশালী করে তোলে।

১৯৭৬ সালে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত লংমার্চ ছিল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একই বছরের ১৭ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং পরে তাঁকে সন্তোষে সমাহিত করা হয়।

ভাষা আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে মরণোত্তর একুশে পদক এবং ২০০৪ সালে বিবিসির জরিপে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’র তালিকায় অষ্টম স্থান লাভ করেন তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ১৪৬তম জন্মদিনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রদ্ধা ও স্মরণ

প্রকাশঃ ০৬:৩০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪৬তম জন্মদিন আজ শুক্রবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধায় পালিত হচ্ছে। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভোর থেকেই টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাঁর মাজার প্রাঙ্গণে নানা কর্মসূচি শুরু হয়। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) প্রশাসনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সকালে তাঁর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ে আজীবন সংগ্রামী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিককার স্বপ্নদ্রষ্টাদের একজন ছিলেন মওলানা ভাসানী। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান আজও বাঙালির অনুপ্রেরণার উৎস।

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া পল্লীতে জন্ম নেওয়া ভাসানী শৈশবে ‘চেগা মিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন। দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হলেও সত্যনিষ্ঠা, ধর্মচিন্তা ও ন্যায়বোধ তাঁকে আলাদা করে তোলে। ১৯০৭ সালে দেওবন্দে ইসলামি শিক্ষাগ্রহণ শেষে তিনি দেশে ফিরে আসাম অঞ্চলে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯১৯ সালে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন এবং খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারাবরণ করেন। ১৯২৬ সালে কৃষক-প্রজা আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং ১৯২৯ সালের ঐতিহাসিক ভাসানচর সম্মেলনের পর তাঁর নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয় ‘ভাসানী’ উপাধি।

বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, ১৯৬৪–৬৯ সালের বিভিন্ন গণআন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন দৃঢ় ও অগ্রণী নেতৃত্বের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান তাঁকে আরও প্রভাবশালী করে তোলে।

১৯৭৬ সালে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত লংমার্চ ছিল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একই বছরের ১৭ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং পরে তাঁকে সন্তোষে সমাহিত করা হয়।

ভাষা আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে মরণোত্তর একুশে পদক এবং ২০০৪ সালে বিবিসির জরিপে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’র তালিকায় অষ্টম স্থান লাভ করেন তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”