শৈশবের স্মৃতি আর ক্যাম্পাসের দায়বদ্ধতায় সরস্বতী পূজা: বেরোবি শিক্ষার্থীদের অনুভবে উৎসবের ভিন্ন রূপ
- প্রকাশঃ ০৯:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 41
সভ্যতার আদিপর্বে মানুষ প্রকৃতির ভাষা বোঝার চেষ্টা করত। সেই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতাতেই আজকের বিজ্ঞান, শিল্প ও সৃজনশীলতার বিকাশ। বিদ্যার দেবী সরস্বতীর হাতে থাকা পুস্তক জ্ঞানের প্রতীক, আর বীণা সৃজনশীলতা ও সুরের রূপক। মানুষ যখন কেবল টিকে থাকার সংগ্রাম পেরিয়ে জীবনকে সুন্দর করার কথা ভাবতে শুরু করল, তখনই শিল্প ও সংগীতের জন্ম—যার অনুপ্রেরণায় আছেন সরস্বতী।
প্রতিবছরের মতো এবারও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বিভিন্ন বিভাগ নিজস্ব উদ্যোগে সরস্বতী পূজার আয়োজন করেছে। ক্যাম্পাসজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন প্যান্ডেলে চলছে প্রস্তুতি। শৈশবের উৎসবের আনন্দ আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পূজার অভিজ্ঞতা—এই দুই সময়ের পার্থক্য ও অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিলয় সরকার বলেন, শৈশবকালে আমাদের গ্রাম বা পাড়ায় সাধারণত একটি পূজার আয়োজন হতো। সবাই মিলে বাসন্তী রঙের পোশাক পরে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিতাম। তখন খুব বেশি মণ্ডপ দেখার সুযোগ ছিল না। কিন্তু ক্যাম্পাসে এসে দেখি একসঙ্গে অনেকগুলো বিভাগ পূজার আয়োজন করছে। এতে মনে হচ্ছে এক নতুন পরিবেশে বসন্ত পূর্ণিমার সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে। এখানে একধরনের স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাও তৈরি হয়—কে কত সুন্দরভাবে আয়োজন করতে পারে। তবে আনন্দের দিক থেকে শৈশবটাই আলাদা ছিল। এখন দায়িত্ব বেড়েছে, আয়োজনের চাপ আছে। আগের মতো নির্ভার আনন্দ না থাকলেও এই ব্যস্ততার মধ্যেও এক ধরনের তৃপ্তি কাজ করে।
আরেক শিক্ষার্থী অর্থী রায় বলেন, শৈশব আর ক্যাম্পাসের পূজার মধ্যে পার্থক্য খুব বেশি নয়, পার্থক্য মূলত বয়সে। আগে বাড়িতে পূজা হতো, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে এখন সবাই মিলে আয়োজন করতে হয়, দায়িত্ব নিতে হয়। ব্যস্ততা অনেক বেশি, কিন্তু সম্মিলিত আয়োজনের অনুভূতিটা ভীষণ ভালো।”=
শিক্ষার্থী ঈশিতা রানী বলেন, শৈশবের হাতেখড়ি আর প্রসাদের দিনগুলো আজ ক্যাম্পাসের সম্মিলিত উৎসবে রূপ নিয়েছে। শৈশবের নির্মল আনন্দ আর বর্তমানের দায়বদ্ধতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই সরস্বতী পূজা আমাদের কাছে বিশেষ। সময়ের সঙ্গে পূজার রূপ বদলালেও মা সারদার প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা একই রয়ে গেছে।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, শৈশব ও ক্যাম্পাস জীবনের সরস্বতী পূজার প্রধান পার্থক্য হলো সময়ের সঙ্গে বেড়ে যাওয়া দায়িত্ববোধ। তবে নিজ নিজ বিভাগের সহপাঠীদের সঙ্গে মিলেমিশে আয়োজন করার আনন্দও কম নয়। সব মিলিয়ে, উৎসবের সেই আদি ও নির্মল আনন্দের স্মৃতি আজও শৈশবের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।






























