জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কঠোর সরকার: দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ
- প্রকাশঃ ০১:২২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 90
দেশে ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক ব্যাধি ও তামাকজনিত মৃত্যুঝুঁকি কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশে ই-সিগারেট ও ভেপিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটে সচিত্র সতর্কবার্তার আকার বড় হচ্ছে।
নতুন এই অধ্যাদেশে তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দেশে ই-সিগারেট, ভেপিং এবং উত্তপ্ত তামাকজাত পণ্যের (Heated Tobacco Products) উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় নতুন করে ‘নিকোটিন পাউচ’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগে আইনের আওতায় ছিল না।
বিদ্যমান আইনে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৫০ শতাংশ এলাকা জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার বিধান ছিল। সংশোধিত অধ্যাদেশে তা বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সতর্কবার্তার আকার বাড়লে ধূমপানে নিরুৎসাহিত হওয়ার হার বাড়বে।
তামাক পণ্যের ব্যবহার কমাতে বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে:
বিক্রয়কেন্দ্রে প্রদর্শন নিষিদ্ধ: খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকের প্যাকেট সাজিয়ে রাখা বা প্রদর্শন করা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রচারমাধ্যম: ইন্টারনেটসহ যেকোনো ডিজিটাল বা গণমাধ্যমে তামাকের যেকোনো ধরনের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাবলিক প্লেস: পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করে সেখানে সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত ধূমপান এলাকা (DSA) রাখার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে।
তথ্যবিবরণী অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই আইনের সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে তামাক কোম্পানিগুলো রাজস্ব কমার অজুহাতে এর বিরোধিতা করে আসছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। রাজস্বের পরিমাণ বিশাল হওয়া সত্ত্বেও জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল সরকার।
গত ৯ ডিসেম্বর এই আইনটি পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এক বছরেরও বেশি সময় পর এই সিদ্ধান্ত এলো। বর্তমানে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত জারির লক্ষ্যে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে ভেটিং-এর জন্য পাঠানো হয়েছে।






























