শীর্ষ নেতৃত্বে ধাক্কা, তবুও স্থিতিশীল ইরান: কারা নিয়ন্ত্রণ করছেন রাষ্ট্রক্ষমতা?
- প্রকাশঃ ০৮:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / 4
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাতের মধ্যে শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের প্রাণহানি সত্ত্বেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো কার্যকর ও সংগঠিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হওয়ার পরও রাষ্ট্র পরিচালনা ও সামরিক কৌশল নির্ধারণে কোনো দৃশ্যমান ভাঙন তৈরি হয়নি।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান একটি জটিল ও বহুস্তরবিশিষ্ট ক্ষমতা কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই কাঠামো কোনো একক ব্যক্তিনির্ভর নয়; বরং ধর্মীয় নেতৃত্ব, সামরিক বাহিনী ও নির্বাচিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।
যুদ্ধের শুরুতেই এক হামলায় দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ কর্তৃত্বশালী ব্যক্তি হিসেবে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।
বর্তমানে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে এখনো তিনি তার পিতার মতো পূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাকে “আহত বীর” হিসেবে উল্লেখ করা হলেও জনসমক্ষে তার উপস্থিতি সীমিত।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার অন্যতম কেন্দ্র। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই বাহিনীর প্রভাব আরও বেড়েছে। তাদের বিকেন্দ্রীভূত “মোজাইক কাঠামো” নেতৃত্ব সংকটে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক পরিচালনার সক্ষমতা আইআরজিসিকে বর্তমান সংকটে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করছে।
ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ধর্মীয় শাসনের পাশাপাশি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট ও বিচার বিভাগের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। শীর্ষ উপদেষ্টা আলি লারিজানির মৃত্যু শাসনব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা হলেও অন্যান্য অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতারা সেই শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নেতৃত্ব আগের তুলনায় আরও কট্টর অবস্থান নিতে পারে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বর্তমানে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন—
- আহমদ ওয়াহিদি — আইআরজিসি প্রধান
- ইসমাইল কানি — কুদস ফোর্স প্রধান
- আলিরেজা তাংসিরি — নৌবাহিনীর প্রধান
- মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ — পার্লামেন্ট স্পিকার
- আয়াতুল্লাহ মোহসেনি-এজেই — বিচার বিভাগের প্রধান
- মাসুদ পেজেশকিয়ান — প্রেসিডেন্ট
- সাঈদ জলিলি — কট্টরপন্থী রাজনীতিক
- আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি — অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল সদস্য
- আব্বাস আরাঘচি — পররাষ্ট্রমন্ত্রী
শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। বরং বহুমাত্রিক ক্ষমতা কাঠামো, শক্তিশালী সামরিক সংগঠন এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে দেশটি এখনো কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স

























