ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হোয়াইট হাউসে উষ্ণ বৈঠক: ট্রাম্প–মামদানির সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১০:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 110

হাত মেলাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জোহরান মামদানি। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে, ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র, ২১ নভেম্বর ২০২৫ ছবি: সংগৃহীত


ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের দিকে ছিল সারা বিশ্বের দৃষ্টি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিউইয়র্ক নগরীর নবনির্বাচিত তরুণ মেয়র জোহরান মামদানির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জেগেছিল বাড়তি আগ্রহ। অতীতের রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে দুজনের সাক্ষাৎ কি সৌহার্দ্যের বার্তা দেবে—এ প্রশ্ন ছিল অনেকের মুখে।

গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে ভেসে ওঠে উষ্ণ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত। ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প ও মামদানির আচরণ–অভিব্যক্তিতে ছিল স্বাচ্ছন্দ্য ও আন্তরিকতার ছাপ।

নবীন বামঘেঁষা ডেমোক্র্যাট নেতা জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের বর্ষীয়ান রাজনীতিক অ্যান্ড্রু কুমোকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অভিবাসী পরিবারের সন্তান হয়েও বড় দায়িত্ব পেয়েছেন নগরীর নেতৃত্বের।

বৈঠকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে দেখা গেছে ধীরস্থির ও শান্ত মেজাজে। সাক্ষাতের সময় তিনি বারবার মামদানির হাত চাপড়ে সমর্থনের ইঙ্গিত দেন। একসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় ট্রাম্প মামদানির হাতও ধরেন। এমনকি মজার ছলে তাঁর বাহুতে হালকা ঘুষি দেন—যেন একজন পরিণত রাষ্ট্রনেতা উদীয়মান এক তরুণ রাজনীতিকের প্রতি স্নেহ দেখাচ্ছেন।

ওভাল অফিসের দৃশ্যে ট্রাম্প বসেছিলেন নিজের টেবিলে, আর মামদানি দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর পাশে—হাত সামনে জোড়বদ্ধ। পোশাকেও ফুটে উঠেছে দলীয় প্রতীকী বার্তা: ট্রাম্পের চওড়া লাল টাই ও মামদানির সরু নীল টাই—দুই রাজনৈতিক শিবিরের প্রতিনিধিত্ব।

সাক্ষাতের আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এটি হবে ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ’ বৈঠক। সরাসরি সাক্ষাতে তিনি সে কথার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। দলীয় বিভাজন ভুলে নিউইয়র্কের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (মামদানি) যত ভালো কাজ করবেন, আমি ততই খুশি হব।’

দুই প্রজন্মের—একজন বর্ষীয়ান রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট, অন্যজন তরুণ ডেমোক্র্যাট মেয়র—এই সাক্ষাৎ আমেরিকান রাজনীতিতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত রেখে গেল।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

হোয়াইট হাউসে উষ্ণ বৈঠক: ট্রাম্প–মামদানির সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

প্রকাশঃ ১০:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

হাত মেলাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জোহরান মামদানি। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে, ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র, ২১ নভেম্বর ২০২৫ ছবি: সংগৃহীত


ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের দিকে ছিল সারা বিশ্বের দৃষ্টি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিউইয়র্ক নগরীর নবনির্বাচিত তরুণ মেয়র জোহরান মামদানির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জেগেছিল বাড়তি আগ্রহ। অতীতের রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে দুজনের সাক্ষাৎ কি সৌহার্দ্যের বার্তা দেবে—এ প্রশ্ন ছিল অনেকের মুখে।

গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে ভেসে ওঠে উষ্ণ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত। ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প ও মামদানির আচরণ–অভিব্যক্তিতে ছিল স্বাচ্ছন্দ্য ও আন্তরিকতার ছাপ।

নবীন বামঘেঁষা ডেমোক্র্যাট নেতা জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের বর্ষীয়ান রাজনীতিক অ্যান্ড্রু কুমোকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অভিবাসী পরিবারের সন্তান হয়েও বড় দায়িত্ব পেয়েছেন নগরীর নেতৃত্বের।

বৈঠকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে দেখা গেছে ধীরস্থির ও শান্ত মেজাজে। সাক্ষাতের সময় তিনি বারবার মামদানির হাত চাপড়ে সমর্থনের ইঙ্গিত দেন। একসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় ট্রাম্প মামদানির হাতও ধরেন। এমনকি মজার ছলে তাঁর বাহুতে হালকা ঘুষি দেন—যেন একজন পরিণত রাষ্ট্রনেতা উদীয়মান এক তরুণ রাজনীতিকের প্রতি স্নেহ দেখাচ্ছেন।

ওভাল অফিসের দৃশ্যে ট্রাম্প বসেছিলেন নিজের টেবিলে, আর মামদানি দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর পাশে—হাত সামনে জোড়বদ্ধ। পোশাকেও ফুটে উঠেছে দলীয় প্রতীকী বার্তা: ট্রাম্পের চওড়া লাল টাই ও মামদানির সরু নীল টাই—দুই রাজনৈতিক শিবিরের প্রতিনিধিত্ব।

সাক্ষাতের আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এটি হবে ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ’ বৈঠক। সরাসরি সাক্ষাতে তিনি সে কথার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। দলীয় বিভাজন ভুলে নিউইয়র্কের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (মামদানি) যত ভালো কাজ করবেন, আমি ততই খুশি হব।’

দুই প্রজন্মের—একজন বর্ষীয়ান রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট, অন্যজন তরুণ ডেমোক্র্যাট মেয়র—এই সাক্ষাৎ আমেরিকান রাজনীতিতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত রেখে গেল।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”