দক্ষিণ থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩, ক্ষতিগ্রস্ত ১৯ লাখ মানুষ
- প্রকাশঃ ১০:২৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
- / 133
টানা বর্ষণে প্লাবিত দক্ষিণ থাইল্যান্ড, উদ্ধারকাজে নৌবাহিনী মোতায়েন। ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বন্যায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা গেছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দুর্গত মানুষের সংখ্যা দ্রুতই বাড়ছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, হোটেল ও দোকানপাট প্লাবিত হয়ে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন। সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ও বিশেষ ট্রাক ব্যবহার করে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক পরিবার শিশুদের রক্ষা করতে ফোলানো বস্তাকে অস্থায়ী ভেলা হিসেবে ব্যবহার করছেন।
গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বর্ষণে দেশটির ৯টি প্রদেশে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাজধানীর সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ। পর্যটন নগরী হাত ইয়াইসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে; কোমরসমান পানি ঢুকে যায় প্রধান সড়ক, আবাসিক এলাকা ও বাজারে।
সরকারি তথ্যমতে, বন্যায় প্রায় ১৯ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার, নৌবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার প্রভাবে থাইল্যান্ডের প্রতিবেশী মালয়েশিয়ারও অন্তত ৮টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে সেখানে এখনো কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল থাকে। কিন্তু এবার মৌসুমের বাইরে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে সপ্তাহজুড়ে আরও ভারী বর্ষণ এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় অনিয়মিত ও তীব্র আবহাওয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।

























