গাজায় চিকিৎসার অভাবে করুণ মৃত্যু: তিন গুণ বেড়েছে ক্যানসার রোগীর মৃত্যুহার
- প্রকাশঃ ০৯:১৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 59
ইসরায়েলি অবরোধ ও টানা আগ্রাসনের ফলে গাজা উপত্যকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ওপর। যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় বর্তমানে গাজায় ক্যানসার রোগীদের মৃত্যুহার তিন গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
গাজার ক্যানসার রোগীদের জন্য একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র ‘টার্কিশ–প্যালেস্টাইনিয়ান ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল’ ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার রোগী কার্যত কোনো চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ—কোনোটিরই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
আল জাজিরার শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল একদিকে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যেতে বাধা দিচ্ছে, অন্যদিকে ক্যানসার চিকিৎসার জরুরি ওষুধ ও সরঞ্জাম প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ফলে গাজায় ক্যানসার শনাক্ত হওয়া অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ডের সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাজা ক্যানসার সেন্টারের মেডিকেল ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবু নাদা বলেন, ক্যানসার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা গাজা হারিয়েছে। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে সেন্টারটি সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র, কেমোথেরাপি কিংবা রেডিওথেরাপির কোনো ব্যবস্থা নেই।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির অজুহাতে চকোলেট, চিপস বা বাণিজ্যিক পণ্য ঢুকতে দেওয়া হলেও ক্যানসার ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।’ তাঁর মতে, ক্যানসার চিকিৎসার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রয়োজনীয় ওষুধ গাজায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
হানি নাঈম নামের এক ক্যানসার রোগী জানান, তিনি ছয় বছর ধরে এ রোগে ভুগছেন এবং আগে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে গিয়ে চিকিৎসা নিতেন। বর্তমানে গাজায় আটকে পড়ায় তিনি কোনো রেডিওথেরাপি পাচ্ছেন না। মোহাম্মদ আবু নাদা জানান, শুধু খান ইউনিস এলাকাতেই প্রতিদিন দুই থেকে তিনজন ক্যানসার রোগীর মৃত্যু হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, ব্যথানাশক ওষুধের সংকট এতটাই তীব্র যে, মুমূর্ষু রোগীদের যন্ত্রণাও লাঘব করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ জন রোগীর বিদেশে চিকিৎসার জন্য দাপ্তরিক অনুমোদন থাকলেও রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা গাজা ছাড়তে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজায় ক্যানসার চিকিৎসা কার্যত ৫০ বছর আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। অনেক অভিজ্ঞ চিকিৎসক এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন, আর যাঁরা রয়েছেন তাঁরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া অসহায়ভাবে রোগীদের মৃত্যুর অপেক্ষা করতে দেখছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে বারবার সহায়তার আবেদন জানানো হলেও পরিস্থিতির কোনো কার্যকর পরিবর্তন হয়নি। চিকিৎসার কৃত্রিম সংকট ও অবরোধের কারণে গাজায় ক্যানসার এখন এক নীরব ঘাতক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা


























