ঢাকা ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০২:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 63

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রথমে এ খবর প্রকাশ করে ফক্স নিউজ। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র।

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে পাকিস্তান, সোমালিয়া, রাশিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিসর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইয়েমেন। তবে এই তালিকায় ভারতের নাম নেই।

অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, যেসব ভিসা আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা বা কল্যাণভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—তাঁদের প্রবেশ ঠেকাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বলবৎ থাকবে।

ফক্স নিউজ ডিজিটালের হাতে পাওয়া নথি অনুযায়ী, এ সময় ভিসা যাচাই ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনা করবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বিদ্যমান আইনের আওতায় যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাঁদের ভিসা আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়াকে বাড়তি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রসিকিউটরদের দাবি, এ ঘটনায় জড়িতদের বড় একটি অংশ সোমালি নাগরিক বা সোমালি-আমেরিকান।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতে পাঠানো এক নির্দেশনায় ‘পাবলিক চার্জ’ আইনের আওতায় ভিসা যাচাইয়ে কঠোর নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আর্থিক সামর্থ্য এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়।

এমনকি বয়স্ক বা অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারী, অতীতে সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণকারী কিংবা কোনো সময় রাষ্ট্রীয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করেছেন—এমন ব্যক্তিদের ভিসাও বাতিল হতে পারে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদারতার সুযোগ নিতে পারে—এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষমতা স্টেট ডিপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োগ করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, কল্যাণভাতা বা সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে—এমন বিদেশিদের প্রবেশ ঠেকাতে এই ৭৫ দেশের জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে। নতুন এই স্থগিতাদেশে ব্যতিক্রমের সুযোগ খুবই সীমিত থাকবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, পাবলিক চার্জ বিধান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে বহুদিন ধরে বিদ্যমান থাকলেও বিভিন্ন প্রশাসনে এর প্রয়োগে ভিন্নতা ছিল। ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে এই বিধান শিথিল করা হয়। তখন নগদ সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা ব্যয় ছাড়া এসএনএপি, মেডিকেইড, উইক বা আবাসন ভাউচার কর্মসূচিগুলোকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশঃ ০২:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রথমে এ খবর প্রকাশ করে ফক্স নিউজ। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র।

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে পাকিস্তান, সোমালিয়া, রাশিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিসর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইয়েমেন। তবে এই তালিকায় ভারতের নাম নেই।

অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, যেসব ভিসা আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা বা কল্যাণভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—তাঁদের প্রবেশ ঠেকাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বলবৎ থাকবে।

ফক্স নিউজ ডিজিটালের হাতে পাওয়া নথি অনুযায়ী, এ সময় ভিসা যাচাই ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনা করবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বিদ্যমান আইনের আওতায় যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাঁদের ভিসা আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়াকে বাড়তি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রসিকিউটরদের দাবি, এ ঘটনায় জড়িতদের বড় একটি অংশ সোমালি নাগরিক বা সোমালি-আমেরিকান।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতে পাঠানো এক নির্দেশনায় ‘পাবলিক চার্জ’ আইনের আওতায় ভিসা যাচাইয়ে কঠোর নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আর্থিক সামর্থ্য এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়।

এমনকি বয়স্ক বা অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারী, অতীতে সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণকারী কিংবা কোনো সময় রাষ্ট্রীয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করেছেন—এমন ব্যক্তিদের ভিসাও বাতিল হতে পারে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদারতার সুযোগ নিতে পারে—এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষমতা স্টেট ডিপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োগ করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, কল্যাণভাতা বা সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে—এমন বিদেশিদের প্রবেশ ঠেকাতে এই ৭৫ দেশের জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে। নতুন এই স্থগিতাদেশে ব্যতিক্রমের সুযোগ খুবই সীমিত থাকবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, পাবলিক চার্জ বিধান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে বহুদিন ধরে বিদ্যমান থাকলেও বিভিন্ন প্রশাসনে এর প্রয়োগে ভিন্নতা ছিল। ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে এই বিধান শিথিল করা হয়। তখন নগদ সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা ব্যয় ছাড়া এসএনএপি, মেডিকেইড, উইক বা আবাসন ভাউচার কর্মসূচিগুলোকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”