ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ ঢাকায় আসছেন ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা

  • প্রকাশঃ ০২:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 110

তিন দিনের সফরে আলোচনা হবে রোহিঙ্গা সংকট, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে

তিন দিনের সফরে আজ (বুধবার) ঢাকায় পৌঁছাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ কূটনীতিক—দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়া ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নিকোল এন চুলিক এবং পূর্ব ও প্যাসিফিক ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এন্ড্রু হেরাপ। এ সফরের সঙ্গী হিসেবে থাকবেন মিয়ানমারে নিযুক্ত মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সুসান স্টিভেনসন। ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম এত উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরের শুরুতেই মার্কিন প্রতিনিধিরা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তাঁরা পর্যায়ক্রমে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিনে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বৈঠক রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ও অগ্রাধিকার ইস্যু বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটেটিভ খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে (যদিও এ সাক্ষাৎ এখনো চূড়ান্ত নয়)। শেষ মুহূর্তে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরে প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে রোহিঙ্গা সংকট, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কনীতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, এবং অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।

ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ
সফরে মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও আলোচনা করতে পারে। গেল বছরের ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন এবং সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকে ঘিরে ওয়াশিংটন থেকে ঢাকার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল—যার জবাব ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

একাধিক সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সহায়তা খাতে অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সে বার্তা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, ২০২৬ সালে মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পরিষ্কার করবে এবং ওই অঞ্চলে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে পেতে চায়।

এই সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মানবিক সংকট এবং কৌশলগত জোটবদ্ধতা নিয়েও নতুন করে বার্তা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তাই সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি—সব পক্ষই এই সফরে আলোচ্য বিষয়গুলোর দিকে সতর্ক নজর রাখছে।

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

আজ ঢাকায় আসছেন ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা

প্রকাশঃ ০২:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

তিন দিনের সফরে আলোচনা হবে রোহিঙ্গা সংকট, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে

তিন দিনের সফরে আজ (বুধবার) ঢাকায় পৌঁছাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ কূটনীতিক—দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়া ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নিকোল এন চুলিক এবং পূর্ব ও প্যাসিফিক ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এন্ড্রু হেরাপ। এ সফরের সঙ্গী হিসেবে থাকবেন মিয়ানমারে নিযুক্ত মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সুসান স্টিভেনসন। ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম এত উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরের শুরুতেই মার্কিন প্রতিনিধিরা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তাঁরা পর্যায়ক্রমে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিনে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বৈঠক রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ও অগ্রাধিকার ইস্যু বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটেটিভ খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে (যদিও এ সাক্ষাৎ এখনো চূড়ান্ত নয়)। শেষ মুহূর্তে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরে প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে রোহিঙ্গা সংকট, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কনীতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, এবং অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।

ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ
সফরে মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও আলোচনা করতে পারে। গেল বছরের ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন এবং সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকে ঘিরে ওয়াশিংটন থেকে ঢাকার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল—যার জবাব ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

একাধিক সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সহায়তা খাতে অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সে বার্তা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, ২০২৬ সালে মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পরিষ্কার করবে এবং ওই অঞ্চলে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে পেতে চায়।

এই সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মানবিক সংকট এবং কৌশলগত জোটবদ্ধতা নিয়েও নতুন করে বার্তা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তাই সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি—সব পক্ষই এই সফরে আলোচ্য বিষয়গুলোর দিকে সতর্ক নজর রাখছে।