ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব আরও অস্থিতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে: রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৩:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 47

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে ক্রমেই আরও অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, বিশ্ব আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মস্কোর গ্র্যান্ড ক্রেমলিন প্রাসাদে নবনিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এ মন্তব্য করেন পুতিন।

ভাষণে বিশ্ব পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরলেও ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতি ইস্যু কিংবা ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মতো সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলো নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরে এটি পুতিনের প্রথম প্রকাশ্য ভাষণ, যেখানে তিনি সচেতনভাবেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে—এ বিষয়ে কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়। তাঁর ভাষায়, পুরোনো সংঘাতগুলো আরও তীব্র হয়ে উঠছে এবং একই সঙ্গে নতুন ও গভীর সংকটের কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হচ্ছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।

ভাষণকালে পুতিনকে কিছুটা হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল বিশ্ব নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিভিন্ন হুমকি বা গ্রিনল্যান্ড ঘিরে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক বিতর্ক নিয়েও তিনি কোনো সরাসরি মন্তব্য করেননি।

নাম উল্লেখ না করে যুক্তরাষ্ট্রের একপাক্ষিক নীতির সমালোচনা করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, কিছু শক্তিধর দেশ নিজেদের শক্তিকে বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করে অন্য দেশগুলোর ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতায় লিপ্ত। তারা পারস্পরিক সংলাপের পরিবর্তে একতরফা বক্তব্য বা ‘মনোলগে’ বিশ্বাসী।

পুতিন পুনর্ব্যক্ত করেন, রাশিয়া একটি ‘মাল্টিপোলার’ বা বহুমুখী বিশ্ব ব্যবস্থার পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ইউরোপে নতুন একটি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর আশা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শিগগিরই এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করবে। ততদিন পর্যন্ত মস্কো তার কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলেও জানান তিনি।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক বর্তমানে ১৯৬২ সালের কিউবান মিসাইল সংকটের পর সবচেয়ে বড় অবনতির মুখে পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পুতিনের এই কৌশলগত নীরবতা বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতায় রাশিয়ার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের দিকনির্দেশনা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণের এই প্রথাগত অনুষ্ঠানে পুতিন পরোক্ষভাবে হলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার অবস্থান ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

বিশ্ব আরও অস্থিতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে: রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন

প্রকাশঃ ০৩:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে ক্রমেই আরও অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, বিশ্ব আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মস্কোর গ্র্যান্ড ক্রেমলিন প্রাসাদে নবনিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এ মন্তব্য করেন পুতিন।

ভাষণে বিশ্ব পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরলেও ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতি ইস্যু কিংবা ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মতো সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলো নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরে এটি পুতিনের প্রথম প্রকাশ্য ভাষণ, যেখানে তিনি সচেতনভাবেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে—এ বিষয়ে কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়। তাঁর ভাষায়, পুরোনো সংঘাতগুলো আরও তীব্র হয়ে উঠছে এবং একই সঙ্গে নতুন ও গভীর সংকটের কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হচ্ছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।

ভাষণকালে পুতিনকে কিছুটা হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল বিশ্ব নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিভিন্ন হুমকি বা গ্রিনল্যান্ড ঘিরে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক বিতর্ক নিয়েও তিনি কোনো সরাসরি মন্তব্য করেননি।

নাম উল্লেখ না করে যুক্তরাষ্ট্রের একপাক্ষিক নীতির সমালোচনা করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, কিছু শক্তিধর দেশ নিজেদের শক্তিকে বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করে অন্য দেশগুলোর ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতায় লিপ্ত। তারা পারস্পরিক সংলাপের পরিবর্তে একতরফা বক্তব্য বা ‘মনোলগে’ বিশ্বাসী।

পুতিন পুনর্ব্যক্ত করেন, রাশিয়া একটি ‘মাল্টিপোলার’ বা বহুমুখী বিশ্ব ব্যবস্থার পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ইউরোপে নতুন একটি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর আশা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শিগগিরই এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করবে। ততদিন পর্যন্ত মস্কো তার কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলেও জানান তিনি।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক বর্তমানে ১৯৬২ সালের কিউবান মিসাইল সংকটের পর সবচেয়ে বড় অবনতির মুখে পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পুতিনের এই কৌশলগত নীরবতা বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতায় রাশিয়ার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের দিকনির্দেশনা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণের এই প্রথাগত অনুষ্ঠানে পুতিন পরোক্ষভাবে হলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার অবস্থান ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”