জৈবিক লিঙ্গই নারীর সংজ্ঞা পরিবর্তন, যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বিতর্কে উত্তাল দেশ
- প্রকাশঃ ০২:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
- / 125
যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট একটি যুগান্তকারী রায়ে ঘোষণা করেছে, ‘নারী’ শব্দটির সংজ্ঞা এখন থেকে শুধুমাত্র জৈবিক লিঙ্গ অনুযায়ী বিবেচিত হবে। এমনকি যেসব ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি Gender Recognition Certificate (GRC) অর্জন করেছেন, তারাও এই সংজ্ঞার আওতায় নারী হিসেবে বিবেচিত হবেন না।
এই রায়টি এসেছে স্কটল্যান্ডের একটি আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে, যেখানে “For Women Scotland” নামক একটি সংগঠন স্কটিশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলাটিতে যুক্তি দেখানো হয় যে, Equality Act 2010 অনুযায়ী নারীর সংজ্ঞা শুধুমাত্র জৈবিক নারী হওয়া উচিত, যাতে নারীদের জন্য নির্ধারিত সুরক্ষিত স্থান ও অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরপরই যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
ট্রান্স অধিকার বিষয়ক সংগঠন “Good Law Project” এই রায়কে “ট্রান্স অধিকারকে অন্তত ২০ বছর পিছিয়ে দেওয়া” বলে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, এটি এক ধরনের বৈষম্য, যা ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের আইনি স্বীকৃতিকে খাটো করে দেখার সামিল।
অন্যদিকে, জেন্ডার-ক্রিটিক্যাল আন্দোলনের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি নারীদের জন্য নির্ধারিত স্পেস, সুযোগ ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করবে এবং আইনগত স্পষ্টতা নিয়ে আসবে।
রায়ের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক ক্ষেত্রেও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অ্যাথলেটিকস ও সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা এখনো বৈষম্যবিরোধী আইন অনুযায়ী সুরক্ষিত থাকবেন। অর্থাৎ, এই রায়ের ফলে ট্রান্স ব্যক্তিরা মৌলিক অধিকার ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
এই রায় স্কটল্যান্ড ছাড়িয়ে গোটা যুক্তরাজ্যের আইনি ও সামাজিক বাস্তবতায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে আগামী দিনে লিঙ্গভিত্তিক নীতিমালা ও সামাজিক সহনশীলতা বিষয়ে নতুন করে ভাবনার দরকার পড়বে।
প্রতিবেদকঃ আলী আজগর ইসতিয়াক

























