মৃত্যুর হুমকি দিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য? মাদুরো অপসারণে নতুন অভিযোগ
- প্রকাশঃ ১২:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 52
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দাবি করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার সময় মার্কিন বাহিনী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের মাত্র ১৫ মিনিটের আল্টিমেটাম দিয়েছিল। রদ্রিগেজের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় মার্কিন সেনারা জানিয়েছিল—হয় তাদের শর্ত মেনে নিতে হবে, নয়তো মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
‘লা হোরা দে ভেনেজুয়েলা’ নামের একটি সাংবাদিক গোষ্ঠীর হাতে আসা প্রায় দুই ঘণ্টার ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মাদুরো অপসারিত হওয়ার সাত দিন পর এক গোপন বৈঠকে রদ্রিগেজ এই ঘটনার বিবরণ দিচ্ছেন।
ভিডিওতে রদ্রিগেজ বলেন, প্রেসিডেন্ট অপহরণের প্রথম মিনিট থেকেই হুমকি শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, তাঁকেসহ তাঁর ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়োকে সরাসরি হত্যার ভয় দেখানো হয়েছিল।
ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংয়ে রদ্রিগেজকে আরও বলতে শোনা যায়, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী শুরুতে তাদের জানিয়েছিল, মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস অপহৃত হননি, বরং হত্যা করা হয়েছে। রদ্রিগেজের দাবি, ওই পরিস্থিতিতে তারাও একই পরিণতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন।
মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেও বাস্তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রায় সব দাবিই মেনে চলছে বলে মন্তব্য করেন রদ্রিগেজ। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো শান্তি বজায় রাখা, জিম্মিদের উদ্ধার করা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখা।
রদ্রিগেজের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতা কোনো স্বেচ্ছাসিদ্ধ সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং এটি ছিল ‘ধ্রুবক হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল’ থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে রদ্রিগেজের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল খনিতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবেশাধিকার দিলে দেশটি আরও সমৃদ্ধ হবে। তবে একই সঙ্গে রদ্রিগেজকে সতর্ক করে ট্রাম্প জানান, তিনি ‘সঠিক পথে’ না চললে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হবে।
তবে এই বক্তব্য নিয়ে ভেনেজুয়েলার ভেতরেই সন্দেহ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদ মার্গারিটা লোপেজ মায়া মনে করেন, রদ্রিগেজ একটি সাজানো বয়ান তুলে ধরছেন। তাঁর মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো শক্তিশালী পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া মাদুরোকে অপসারণ করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব ছিল না। রদ্রিগেজ এখন নিজেকে নির্দোষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে উপস্থাপন করতেই এই নাটকীয় তথ্য সামনে আনছেন বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
ভিডিওতে রদ্রিগেজ বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলেন, কৌশলগত বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের মাধ্যমেই তারা এই সংকট কাটিয়ে উঠবেন।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থা কার্যত মার্কিন নীতিনির্ধারণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে ট্রাম্পের প্রশংসা, অন্যদিকে রদ্রিগেজের হুমকির দাবি—এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বমঞ্চে এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আধিপত্যের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

























