গাজায় আবারও ইসরায়েলি হামলা, শিশুসহ নিহত অন্তত ২৯
- প্রকাশঃ ০৮:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 13
নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলায় ছয় শিশুসহ অন্তত ২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও গোলন্দাজ বাহিনী গাজা সিটির জনবহুল এলাকা থেকে শুরু করে দক্ষিণ গাজার মানবিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত আল-মাওয়াসি পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালায়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহত ও আহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি চালানো হয় গাজা সিটির শেখ রেদওয়ান এলাকায় অবস্থিত একটি পুলিশ সদরদপ্তরে। সেখানে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত সাতজন নিহত হন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ভোরের দিকে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবু লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে ১৮ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় সেখানে অবস্থান নেওয়া মানুষগুলো ঘুমের মধ্যেই হামলার শিকার হন। গোলাবর্ষণে বহু তাঁবু ধ্বংস হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস এ হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। হামাস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এ ধরনের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজায় কার্যকর যুদ্ধবিরতি শুরু থেকেই ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে এসে ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় একের পর এক অভিযান চালিয়ে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় সাম্প্রতিক এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে শিশুদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে গাজার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও জ্বালানির অভাবে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

























