ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা: শ্যুটার ফয়সালের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন, সিআইডির অনুসন্ধান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৯:১০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 81

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সিআইডি আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।

সিআইডি জানায়, বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসাবে সংঘটিত ১২৭ কোটি টাকার এই লেনদেন অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এছাড়া গ্রেপ্তার অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া রেকর্ডগুলোর সমষ্টিগত মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।

সংস্থাটি ধারণা করছে, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ মানি লন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, “মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এখনো পলাতক থাকলেও তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া চেকবই ও নথিপত্র আমাদের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে দ্রুত বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মূল যোগানদাতা বা সরবরাহকারী কারা, তা চিহ্নিত করতে সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে। হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক বা অপরাধী চক্রের পরিকল্পনা, অস্ত্র সরবরাহ এবং অর্থায়ন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা: শ্যুটার ফয়সালের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন, সিআইডির অনুসন্ধান শুরু

প্রকাশঃ ০৯:১০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সিআইডি আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।

সিআইডি জানায়, বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসাবে সংঘটিত ১২৭ কোটি টাকার এই লেনদেন অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এছাড়া গ্রেপ্তার অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া রেকর্ডগুলোর সমষ্টিগত মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।

সংস্থাটি ধারণা করছে, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ মানি লন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, “মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এখনো পলাতক থাকলেও তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া চেকবই ও নথিপত্র আমাদের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে দ্রুত বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মূল যোগানদাতা বা সরবরাহকারী কারা, তা চিহ্নিত করতে সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে। হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক বা অপরাধী চক্রের পরিকল্পনা, অস্ত্র সরবরাহ এবং অর্থায়ন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”