হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতে দুজন গ্রেপ্তার, পূর্বপরিকল্পিত হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল ডিএমপি
- প্রকাশঃ ১২:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 97
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। হত্যাকাণ্ডের পর মূল অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতে দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) হাদি হত্যা মামলার তদন্ত অগ্রগতির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “তদন্তে পাওয়া তথ্য, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জবানবন্দি বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে—শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল। পরিকল্পিতভাবেই হত্যার পর আসামিরা দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যায়।”
নজরুল ইসলাম জানান, প্রধান আসামি ফয়সালসহ আরও একজন আসামি ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যায়। হত্যাকারীদের পালাতে সহযোগিতা করা দুই ভারতীয় নাগরিককে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনার পর ফয়সাল ও আলমগীর ঘটনাস্থল থেকে সিএনজি যোগে আমিনবাজারে যান। সেখান থেকে তারা মানিকগঞ্জের কালামপুরে পৌঁছে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রাইভেটকারে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে যান। হালুয়াঘাটের একটি ফিলিং স্টেশনে আগে থেকেই ফিলিপ ও সঞ্জয় তাদের গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছিল।
নজরুল ইসলাম বলেন, “ফিলিপ তাদের সীমান্ত পার করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের এক ব্যক্তি পুত্তির কাছে পৌঁছে দেন। পরে পুত্তি তাদের এক ট্যাক্সি চালক সামির কাছে হস্তান্তর করেন। ওই ট্যাক্সি চালক আসামিদের মেঘালয়ের পুরা নামক একটি শহরে পৌঁছে দেয়।”
ডিএমপি জানায়, ইনফরমাল চ্যানেলের মাধ্যমে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পুত্তি ও ট্যাক্সি চালক সামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এ মামলায় গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে ৬ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ৭–৮ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে থাকা প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগী চলন্ত অবস্থায় হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর ২০ ডিসেম্বর আদালতের আদেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজন করা হয়।


























