ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশ্যে ধূমপান করলে ২ হাজার টাকা জরিমানা, আরো ৯ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৪:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 51

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে এটি ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এই অধ্যাদেশের লক্ষ্য জনগণকে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা এবং বিদ্যমান আইনকে আরও শক্তিশালী করা।

প্রধান সংযোজন ও পরিবর্তনসমূহ:

তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ:
ই-সিগারেট, ভ্যাপ, Heated Tobacco Product (HTP), নিকোটিন পাউচসহ সকল উদীয়মান তামাকপণ্য এখন তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে গণ্য হবে। সরকার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে যেকোনো পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।

পাবলিক প্লেসে নিষেধাজ্ঞা:
সব পাবলিক স্থানে ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২,০০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ:
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সকল মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন, বিক্রয়স্থলে প্রদর্শন ও প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। CSR কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির লোগো বা আর্থিক সহায়তা ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে বিক্রয় নিষিদ্ধ:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ।

ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ:
উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা হবে।

কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি নিষিদ্ধ:
উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পূর্ববর্তী Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল করা হয়েছে।আসক্তিমূলক দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ:
তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক পদার্থ মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং:
প্যাকেটের ৭৫% জায়গা রঙিন ছবি ও সতর্কবার্তা দ্বারা স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক।

শাস্তি ও প্রয়োগ জোরদার:
জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, কম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল এবং মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ায় দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী হবে, বিশেষ করে ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে।

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

প্রকাশ্যে ধূমপান করলে ২ হাজার টাকা জরিমানা, আরো ৯ নির্দেশনা

প্রকাশঃ ০৪:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে এটি ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এই অধ্যাদেশের লক্ষ্য জনগণকে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা এবং বিদ্যমান আইনকে আরও শক্তিশালী করা।

প্রধান সংযোজন ও পরিবর্তনসমূহ:

তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ:
ই-সিগারেট, ভ্যাপ, Heated Tobacco Product (HTP), নিকোটিন পাউচসহ সকল উদীয়মান তামাকপণ্য এখন তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে গণ্য হবে। সরকার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে যেকোনো পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।

পাবলিক প্লেসে নিষেধাজ্ঞা:
সব পাবলিক স্থানে ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২,০০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ:
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সকল মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন, বিক্রয়স্থলে প্রদর্শন ও প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। CSR কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির লোগো বা আর্থিক সহায়তা ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে বিক্রয় নিষিদ্ধ:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ।

ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ:
উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা হবে।

কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি নিষিদ্ধ:
উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পূর্ববর্তী Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল করা হয়েছে।আসক্তিমূলক দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ:
তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক পদার্থ মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং:
প্যাকেটের ৭৫% জায়গা রঙিন ছবি ও সতর্কবার্তা দ্বারা স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক।

শাস্তি ও প্রয়োগ জোরদার:
জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, কম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল এবং মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ায় দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী হবে, বিশেষ করে ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে।