গভীর সমুদ্রে গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার
- প্রকাশঃ ০২:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 71
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বঙ্গোপসাগরের তলদেশে প্লাস্টিকের অস্তিত্ব ও জেলিফিশের অস্বাভাবিক আধিক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগ হলেও এই বিপুল সম্পদ আমরা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম-সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
গবেষণা জাহাজ ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ পরিচালিত জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করে সংশ্লিষ্ট কমিটি। গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী এই জরিপ চালান, যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী বৈঠকে গবেষণার বিস্তারিত উপাত্ত তুলে ধরেন।
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জানান, ৬৫ প্রজাতির নতুন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার শঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের আধিক্য অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ইমব্যালেন্সের লক্ষণ। মূলত ওভারফিশিংয়ের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দুই হাজার মিটার গভীরতাতেও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের তুলনায় বড় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং স্বল্প গভীরতাতেও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, গভীর সমুদ্রে ২৭০–২৮০টি বড় ট্রলার মাছ আহরণ করছে, যার মধ্যে ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ ব্যবহার করে টার্গেটেড ফিশিং করছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, এভাবে টার্গেটেড ফিশিং চললে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ‘সোনার ফিশিং’ নিয়ে সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে গবেষণায় টুনা মাছের সম্ভাব্য আধিক্য এবং সুন্দরবনের নিচে একটি ফিশিং নার্সারি-এর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকারের নির্দেশনায় এসেছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সামুদ্রিক সম্পদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও নীতি সমন্বয় প্রয়োজন। বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়েল নেভির বহুমুখী সার্ভে ভেসেল এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা সমুদ্র গবেষণার সক্ষমতা বাড়াবে। তিনি জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয় অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।


























