ইরানের সরকার পতনের সম্ভাবনা দেখছেন ট্রাম্প, পাহলভির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
- প্রকাশঃ ০২:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 53
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরোধীদলীয় নেতা রেজা পাহলভি তাঁর কাছে বেশ চমৎকার মানুষ বলে মনে হয়। তবে ইরানের ভেতরে পর্যাপ্ত জনসমর্থন আদায় করে তিনি আদৌ ক্ষমতায় যেতে পারবেন কি না—সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান ধর্মীয় সরকারের পতনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে পাহলভির ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত নন।
ট্রাম্প বলেন, তাঁকে (রেজা পাহলভি) বেশ চমৎকার মানুষ মনে হয়। কিন্তু নিজ দেশের ভেতরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কেমন হবে, তা আমি জানি না। আমরা এখনো প্রকৃতপক্ষে সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।
তিনি আরও যোগ করেন, আমি জানি না, তাঁর দেশ তাঁর নেতৃত্ব গ্রহণ করবে কি না। তবে তারা যদি করে, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।
ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সহিংস বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এসব বিক্ষোভে ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থনের ইঙ্গিত দিলেও ইরানের প্রয়াত শাহর ছেলে রেজা পাহলভিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তিনি দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান বজায় রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগেই ইরান ত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি প্রবাসে থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তবে ইরানের বিরোধী দলগুলো একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও আদর্শিক উপদলে বিভক্ত। পাহলভি–সমর্থিত রাজতন্ত্রপন্থীরাও এর অংশ হলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ভেতরে তাঁদের কোনো সুসংগঠিত উপস্থিতি স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভের কারণে তেহরান সরকারের পতন হওয়া সম্ভব। তবে সত্য কথা হলো—যেকোনো শাসনব্যবস্থারই পতন হতে পারে। সরকার থাকুক বা না থাকুক, সামনের সময়টা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক হতে চলেছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার জন্য তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেই দায়ী করেন। ট্রাম্প বলেন, পুতিন চুক্তি করতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রধান বাধা হলেন জেলেনস্কি।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের তদন্ত নিয়ে রিপাবলিকানদের সমালোচনাও উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দলীয় আইনপ্রণেতাদের তাঁর প্রতি ‘অনুগত হওয়া উচিত’।
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে ট্রাম্প জানান, নভেম্বরে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জ থাকলেও দলটি জয়লাভের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির শক্তির কথা তুলে ধরে বলেন, আসন্ন দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি এই বার্তাই তুলে ধরবেন।
হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, দাভোস সফরকালে ট্রাম্প সুইজারল্যান্ড, পোল্যান্ড ও মিসরের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।


























