ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার নয়, জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান

  • প্রকাশঃ ১২:০৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 39
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানছবি: রয়টার্স

নির্বাচন পরবর্তী সমীকরণে প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীকে বিরোধী দলেই দেখতে চান বিএনপি নেতা। সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ঘোষণা।

ঢাকা: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন বার্তা দিলেন বিএনপি’র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের পর প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ‘ঐক্য সরকার’ গঠন করবে না বিএনপি। বরং এককভাবে সরকার গঠনের বিষয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন তিনি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত জোটবদ্ধভাবে ক্ষমতায় থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই সমীকরণ নাকচ করে দিয়েছেন তারেক রহমান। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে স্থিতিশীলতার স্বার্থে ঐক্য সরকারের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারেক রহমান শুক্রবার তার কার্যালয়ে বসে বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?

তিনি আরও যোগ করেন, আমি জানি না তারা (জামায়াত) কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী হয়, আমি আশা করি তাদের একটি ভালো বিরোধী দল হিসেবে পাব।

তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট
তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট

প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরা ৬০ বছর বয়সী এই নেতা জানান, বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই ক্ষমতায় ফিরবে। দলের অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের আশা করছে বিএনপি। যদিও নির্দিষ্ট আসনের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি, তবে বলেছেন, আমরা নিশ্চিত, সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপি সরাসরি লড়ছে এবং বাকি আসনগুলো জোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে, জামায়াত ও তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জোট বিএনপিকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বলে জনমত জরিপগুলোতে উঠে এসেছে।

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং দেশে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ফলে সৃষ্ট দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেছেন তারেক রহমান। নির্বাচনে জয়ী হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি চীনের দিকে ঝুঁকে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। আমরা যদি সরকারে থাকি, তবে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে হবে। তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে পক্ষই জুতসই প্রস্তাব দেবে, আমরা তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখব। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক হবে না।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তবে শেখ হাসিনার সন্তানেরা রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নে তারেক রহমান উদার মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যদি মানুষ কাউকে গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তবে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।

আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার নয়, জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান

প্রকাশঃ ১২:০৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানছবি: রয়টার্স

নির্বাচন পরবর্তী সমীকরণে প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীকে বিরোধী দলেই দেখতে চান বিএনপি নেতা। সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ঘোষণা।

ঢাকা: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন বার্তা দিলেন বিএনপি’র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের পর প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ‘ঐক্য সরকার’ গঠন করবে না বিএনপি। বরং এককভাবে সরকার গঠনের বিষয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন তিনি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত জোটবদ্ধভাবে ক্ষমতায় থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই সমীকরণ নাকচ করে দিয়েছেন তারেক রহমান। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে স্থিতিশীলতার স্বার্থে ঐক্য সরকারের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারেক রহমান শুক্রবার তার কার্যালয়ে বসে বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?

তিনি আরও যোগ করেন, আমি জানি না তারা (জামায়াত) কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী হয়, আমি আশা করি তাদের একটি ভালো বিরোধী দল হিসেবে পাব।

তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট
তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট

প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরা ৬০ বছর বয়সী এই নেতা জানান, বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই ক্ষমতায় ফিরবে। দলের অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের আশা করছে বিএনপি। যদিও নির্দিষ্ট আসনের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি, তবে বলেছেন, আমরা নিশ্চিত, সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপি সরাসরি লড়ছে এবং বাকি আসনগুলো জোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে, জামায়াত ও তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জোট বিএনপিকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বলে জনমত জরিপগুলোতে উঠে এসেছে।

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং দেশে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ফলে সৃষ্ট দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেছেন তারেক রহমান। নির্বাচনে জয়ী হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি চীনের দিকে ঝুঁকে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। আমরা যদি সরকারে থাকি, তবে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে হবে। তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে পক্ষই জুতসই প্রস্তাব দেবে, আমরা তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখব। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক হবে না।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তবে শেখ হাসিনার সন্তানেরা রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নে তারেক রহমান উদার মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যদি মানুষ কাউকে গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তবে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।

আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”