জাতির উদ্দেশে ভাষণে তারেক রহমান: ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়বে বিএনপি
- প্রকাশঃ ১০:১৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 44
দেশের প্রত্যেক নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন।
সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বাংলাদেশ টেলিভিশনে এ ভাষণ সম্প্রচার করা হয়।
ভাষণে তিনি একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিএনপির কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান দিকগুলো দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যেক নাগরিকের হারানো রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি বড় সুযোগ। এই উপলব্ধিকে সামনে রেখে দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।’
তিনি জানান, বর্তমান প্রজন্মের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপির সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ, বেকার জনগোষ্ঠী ও নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাকে বিএনপির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ভাষণের শুরুতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে এসেছে।
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এ সময়ে গণতন্ত্রকামী মানুষ গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হয়েছেন। ‘আয়নাঘর’ নামক বন্দিশালাকে তিনি জ্যান্ত মানুষের কবরস্থান হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পর্যায়ক্রমে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
দারিদ্র্য বিমোচনে নারীপ্রধান পরিবারের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু করে সার-বীজ ও সরাসরি আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি।
নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, নারীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষাব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। কর্মস্থলে ডে-কেয়ার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন, নারীদের জন্য বিশেষায়িত পরিবহন ব্যবস্থা চালু এবং সাইবার বুলিং ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ রাখার কথা বলেন।
স্বাস্থ্য খাতে তিনি জানান, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ নীতির ভিত্তিতে সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তাঁরা ইউনিয়ন পর্যায়ে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেবেন।
প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, নিয়োগ ও পদোন্নতি হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এতে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের জন্য জামানতবিহীন সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
ধর্মীয় বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা হবে এবং ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
ভাষণের শেষ পর্যায়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে দেশবাসীর কাছে ধানের শীষে ভোট চান। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব দিন, আর ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবেন।




























