একই দিনে ভোট ও গণভোটের সিদ্ধান্তে আপত্তি জামায়াতের: ‘সংস্কারকে গুরুত্বহীন করার ফাঁদ’
- প্রকাশঃ ১০:১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
- / 120
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত সংস্কার প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে কমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি ‘ফাঁদ’ হতে পারে। একই সঙ্গে ভোটের সময়কার প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।
গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকার মগবাজারের আল–ফালাহ মিলনায়তনে আট দলের অভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে জাতীয় নির্বাচনের প্রতি মানুষের মনোযোগ বেশি থাকবে। ফলে গণভোটের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যেতে পারে। এতে ভোট কম পড়লে সংস্কারবিরোধীরা এটাকে ‘জনগণ গণভোট চায় না’ বলে প্রচারের সুযোগ পাবে এবং কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তাহের অভিযোগ করেন, নির্বাচনপূর্ব প্রশাসনিক রদবদলের মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে দুর্বল করা হচ্ছে। সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার সহযোগিতায় প্রশাসনকে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, সচেতনভাবে একটি বিশেষ দলের অনুগত ব্যক্তিদের প্রশাসনে বসানো হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ়তার প্রশংসা করে তাহের বলেন, বিএনপি কখনোই আদেশের মাধ্যমে সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি দেওয়ার পক্ষে ছিল না। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা এই বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন, এজন্য তাঁকে সাধুবাদ জানানো যায়। তবে তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ সরকার যথেষ্ট কাটছাঁট করেছে এবং একটি দলের সঙ্গে সমঝোতা করে সুপারিশের বেশ কয়েকটি জায়গায় পরিবর্তন আনা হয়েছে—যা জনগণকে হতাশ করেছে।
গণভোটের প্রশ্ন চার ভাগে বিভক্ত করার সমালোচনা করে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, সংস্কার কমিশন প্যাকেজ আকারে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের প্রস্তাব দিলেও সরকার সেটিকে ভেঙে চারটি আলাদা বিষয়ে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে জনগণ জটিলতায় পড়বে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে উঠবে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট ‘অ্যাকোমোডেট’ করার জন্যই সরকার এই বিভাজন করেছে।
তাহের আরও অভিযোগ করেন, তিনজন উপদেষ্টা ভুল তথ্য দিয়ে এবং বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করছেন, যাতে একটি বিশেষ দলের পক্ষে সুবিধা যায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের নাম প্রধান উপদেষ্টার কাছে লিখিতভাবে পাঠানো হবে। এর পরও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে নামগুলো প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতসহ আটটি দলের শীর্ষ নেতারা—যাদের মধ্যে ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব কাজী নিজামুল হক প্রমুখ।




























