ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিভ্রান্তি–হতাশার মধ্যেও নির্বাচন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—জাতীয় প্রেসক্লাবে ফখরুলের মন্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০২:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / 154

বিভ্রান্তি, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার একটি স্পষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান ফখরুল। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বিএনপি গঠিত ‘মাওলানা ভাসানী মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটি’।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “অনেক বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে কিছু মহল বিভিন্ন দাবি তুলে এই নির্বাচনকে ব্যাহত বা বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—একটি জনগণের নির্বাচিত সরকার।”
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়ে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।

অর্থনীতির অবনতিশীল পরিস্থিতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া অর্থনীতি আরও দুর্বল হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাবে। পাশাপাশি আগামীকাল (সোমবার) ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার রায়’ ঘিরে একটি মহল নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সভায় অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ বলেন, নির্বাচন যত বলিষ্ঠভাবে ঘোষণা করা হোক, বর্তমান পরিস্থিতি “কালো মেঘে ঢাকা”। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে দেশের সামনে বড় সংকট তৈরি হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনগণ কতটা বুঝতে পারবে—সে নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, দেশের বড় অংশ এখনও নিরক্ষর; জটিল প্রশ্নে ভোট দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। তাই জাতীয় ঐক্য এখন অত্যন্ত জরুরি।

মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা কমাতে হবে। গণতন্ত্র না থাকলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও টিকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণতন্ত্রের পথে যেকোনো বাধা দেশের মানুষ মেনে নেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না, আর সেখানে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের ভূমিকা ছিল সহায়ক। তাই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান। বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদসহ আরও অনেকে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

বিভ্রান্তি–হতাশার মধ্যেও নির্বাচন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—জাতীয় প্রেসক্লাবে ফখরুলের মন্তব্য

প্রকাশঃ ০২:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

বিভ্রান্তি, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার একটি স্পষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান ফখরুল। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বিএনপি গঠিত ‘মাওলানা ভাসানী মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটি’।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “অনেক বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে কিছু মহল বিভিন্ন দাবি তুলে এই নির্বাচনকে ব্যাহত বা বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—একটি জনগণের নির্বাচিত সরকার।”
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়ে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।

অর্থনীতির অবনতিশীল পরিস্থিতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া অর্থনীতি আরও দুর্বল হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাবে। পাশাপাশি আগামীকাল (সোমবার) ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার রায়’ ঘিরে একটি মহল নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সভায় অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ বলেন, নির্বাচন যত বলিষ্ঠভাবে ঘোষণা করা হোক, বর্তমান পরিস্থিতি “কালো মেঘে ঢাকা”। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে দেশের সামনে বড় সংকট তৈরি হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনগণ কতটা বুঝতে পারবে—সে নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, দেশের বড় অংশ এখনও নিরক্ষর; জটিল প্রশ্নে ভোট দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। তাই জাতীয় ঐক্য এখন অত্যন্ত জরুরি।

মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা কমাতে হবে। গণতন্ত্র না থাকলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও টিকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণতন্ত্রের পথে যেকোনো বাধা দেশের মানুষ মেনে নেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না, আর সেখানে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের ভূমিকা ছিল সহায়ক। তাই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান। বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদসহ আরও অনেকে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”